লাগাতার মার্কিন হামলায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আমেরিকার ঘাঁটিগুলিতে আগেই হামলা চালাতে শুরু করেছে তেহরান। এবার কুয়েতের একটি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে গোলবর্ষণ করল ইরান। পাশাপাশি একটি জলশোধনাগারেও হামলা হয়েছে বলে খবর।
একাধিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, রবিবার কুয়েতের ‘আল-সুবিয়া’ তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং জলশোধনাগারে হামলা চালায় ইরান। আছড়ে পড়ে একের পর এক ড্রোন। এর জেরেই তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং জলশোধনাগারটিতে ভয়াবহ আগুন লেগে যায়। কালো ধোঁয়ায় ঢাকে গোটা এলাকা। অগ্নিকাণ্ডের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে (যদিও সেই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল)। তবে এই হামলায় তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং জলশোধনাগারটির কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কুয়েতের সেনাবাহিনীর দাবি, রবিবার দিনরাত দেশটির ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় তেহরান। তার মধ্যে অধিকাংশ আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে। কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণকের মুখপাত্র মেজর জেনারেল সাউদ আব্দুল আজিজ আল-ওতাইবি বলেন, "দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলিতে লাগাতার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান, যার ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে।" কুয়েতে তেহরানের হামলার কড়া নিন্দা করেছে ওয়াশিংটন।
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত বিভিন্ন জলপরিশোধনাগার বা ‘ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট’গুলি হল এখানকার ‘জীবনরেখা’। এগুলি সমুদ্রের লবণাক্ত জল পরিশোধন করে পানীয়ের উপযোগী করে তোলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, কুয়েত-সহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতে অবস্থিত এই পরিশোধনাগারগুলি এখানকার পানীয় জলের প্রধান উৎস। এই দেশগুলির প্রায় ৭০ থেকে ৯০ শতাংশ জল সরবরাহ এই পরিশোধনাগারগুলির উপরই নির্ভরশীল। ফলে এই পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বড় আকারের জল সংকট তৈরি হতে পারে।
