তেহরানের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সে প্রয়াত আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান চলছে। ৯ জুলাই তাঁকে সমাধিস্থ করা হবে। এই শোকানুষ্ঠানে যোগ দিতে ভারত থেকে অনেকেই গিয়েছে। তাঁদেরই অন্যতম উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজের পণ্ডিত বিজয়কুমার শর্মা। তাঁর একটি পুরনো ভিডিও নতুন করে ছড়িয়েছে নেটভুবনে। সেখানে তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে, ''ইরান কখনও আমেরিকাকে ভয় পায়নি। তারা আমেরিকাকে হাঁটু গেড়ে বসিয়ে দিয়েছে।''
ইতিমধ্যেই প্রয়াত আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নেওয়ায় ভারতকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছে ইরান। এহেন পরিস্থিতিতে ভাইরাল গত ১৩ মার্চের ভিডিও। সেখানে বিজয়কুমার জানিয়েছেন, ''ওরা কখনওই আমেরিকাকে ভয় পায়নি। আমাদের ইরানের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। কারণ বছরের পর বছর ধরে আমরা এবং পুরো বিশ্ব অপেক্ষা করছিল এমন কারও জন্য, যে আমেরিকাকে তার আসল অবস্থান বুঝিয়ে দেবে। ইরান কখনও আমেরিকাকে ভয় পায়নি। তারা আমেরিকাকে হাঁটু গেড়ে বসিয়ে দিয়েছে।'' সেই সঙ্গেই তিনি বলেন, ''হুসাইনিয়াত মানে নির্যাতিতদের পাশে দাঁড়ানো এবং আয়াতোল্লা খামেননেই সর্বদা নিপীড়িত ও দরিদ্রদের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন।''
এই পুরনো ভিডিওটিই এখন চর্চায়। খামেনেইর শেষকৃত্যে যোগ দিতে যাওয়া দলে বিজয়ের অন্তর্ভুক্তি প্রমাণ করে দিচ্ছে ভারত কূটনৈতিক ভাবে আমেরিকাকে একটা বার্তা দিতে চাইছে। সাম্প্রতিক অতীতে ট্রাম্পের পাক-ঘনিষ্ঠতা এবং ভারতের দিকে 'শুল্কবোমা' নিক্ষেপের পালটা 'বন্ধু' ইরানের সঙ্গে নৈকট্য বাড়ানোর 'সংকেত' বলেই এই পদক্ষেপকে দেখছে ওয়াকিবহাল মহল।
এদিকে আলি খামেনেই অন্ত্যেষ্টি নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যে নতুন বিতর্ক দানা বেঁধেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট মন্তব্য করেছেন, “ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বরা সবাই ওখানেই রয়েছেন। একটা গুলিতেই তাদের সবাইকে খতম করা সম্ভব। কিন্তু আমরা তা করব না। কারণ, তাহলে আলোচনার জন্য আর কাউকে পাওয়া যাবে না।” প্রতিবাদ জানিয়ে আর্মেনিয়ার ইরানি দূতাবাসের তরফে এক্স হ্যান্ডেলে লেখা হয়েছে, ‘মানুষকে হত্যা করা যায় কিন্তু তাঁর আদর্শ বেঁচে থাকে। আসলে আপনারা একটা পারফিউমের বোতল ভেঙে ফেলেছেন যার সুগন্ধ ছড়িয়েছে সর্বত্র। তবে এগুলো তো আপনারা বুঝবেন না। কারণ সভ্যতা, ইতিহাস, সম্মান-কোনওটাই আপনাদের নেই।’
