লেবাননে ইজরায়েলের হামলার জেরে ফের শিকেয় উঠেছে যুদ্ধবিরতি। এবার সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাল ইরান। অপরিশোধিত তেলের এই পাইপলাইন হরমুজকে এড়াতে তৈরি করা হয়েছিল। সেখানে ইরানের হামলা সৌদি আরবের জন্য এক বিরাট ধাক্কা। ইজরায়েলের তরফে লেবাননে হামলার বদলা নিতেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
গত মঙ্গলবার ইরানের ১০ দফা শর্তকে আলোচনার টেবিলে এনে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করেছিল আমেরিকা। যেখানে অন্যতম শর্ত ছিল মধ্যপ্রাচ্যের অঞ্চলগুলিতে নতুন করে আগ্রাসন দেখাবে না আমেরিকা বা ইজরায়েল। তবে যুদ্ধবিরতির শর্ত থেকে সেই প্রস্তাব খারিজ করে বুধবার লেবাননে ভয়ংকর হামলা চালায় ইজরায়েল। এরপরই সমস্ত আলোচনা আস্তাকুড়েতে ফেলে প্রত্যাঘাত শুরু করে ইরান। হামলা চালানো হয় সৌদি আরবের তেলের পাইপলাইনে। হরমুজকে এড়াতে তৈরি হয়েছিল এই পাইপলাইন। যার মাধ্যমে দেশটির পূর্ব অঞ্চল থেকে দৈনিক ৭০ লক্ষ ব্যারেল তেল পৌঁছত ইয়েনবু বন্দরে। ইরানের হামলায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সৌদির অন্যান্য তৈল ক্ষেত্রগুলি।
সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাল ইরান। অপরিশোধিত তেলের এই পাইপলাইন হরমুজকে এড়াতে তৈরি করা হয়েছিল।
ইরানের তরফে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, যদি ইজরায়েল ফের লেবাননে হামলা চালায় তবে এই যুদ্ধবিরতি বাতিল হবে। আর সেটা যদি হয় তবে ফের গোটা মধ্যপ্রাচ্যে আগুন জ্বলবে। জানা গিয়েছে, সংঘর্ষবিরতির মধ্যেই ইজরায়েল লেবাননের ওপর এযাবৎকালের সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা চালায়। শক্তিশালী বিস্ফোরণে পুরো বেইরুট কেঁপে ওঠে। আকাশ ঢেকে যায় ধোঁয়ার কুণ্ডলীতে। কেবল বেইরুট নয়, বেকা উপত্যকা, দক্ষিণ লেবাননজুড়ে হেজবোল্লার ১০০টিরও বেশি ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে তেল আভিভ। লেবাননের স্বাস্থ্যমন্ত্রকের দাবি, এই হামলায় সব মিলিয়ে ২৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছেন। পাশাপাশি আহত হয়েছেন আরও ১১৬৫ জন।
