মধ্যপ্রাচ্যে ‘শান্তির আলো’ ক্ষীণ! ভারতীয় সময় মঙ্গলবার রাত থেকেই ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধের ঝাঁজ কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছে। ইরানের একাধিক জায়গায় গোলাবর্ষণ করেছে মার্কিন সেনা। উপকূলীয় শহর সিরিকে রাতভর হামলায় ধ্বংস হয়ে গিয়েছে অন্তত দু’টি পানীয় জলের ট্যাঙ্ক। ফলে জল সংকটে হাহাকার পড়ে গিয়েছে সেখানে। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে, এবার ইরানকে শুকিয়ে মারার ছক করেছে ওয়াশিংটন।
ইরানের একটি সংবাদমাধ্যমের দাবি করেছে, সিরিক শহরের বামানি জেলায় মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রে দু'টি জলের ট্যাঙ্ক ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। এর ফলে প্রায় গোটা শহরে পানীয় জল সরবরাহ ব্যাহত হয়ে পড়েছে। এই হামলাকে মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসাবে অভিহিত করেছে ভারতে ইরানি দূতাবাস। তারা তাদের এক্স হ্যান্ডলে লিখেছে, 'সিরিকে মার্কিন সন্ত্রাসী হামলায় দু'টি জলের ট্যাঙ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গিয়েছে, যার ফলে জল সংকট তৈরি হয়েছে। খাবার জল পাচ্ছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা। নিরীহ নাগরিকদের উপর এভাবে হামলা চালিয়ে সংকট ডেকে আনা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। গোটা পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগের।"
মার্কিন হেলিকপ্টার ধ্বংসের জবাবে মঙ্গলবার রাতেই ইরানের একাধিক ঘাঁটিকে নিশানা করে হামলা চালায় আমেরিকা। সেন্ট্রাল কমান্ডের তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে মার্কিন সেনা মঙ্গলবার বিকেল থেকে ইরানের উপর আত্মরক্ষামূলক হামলা চালিয়েছে। আমাদের এই অভিযান ইরানের অযৌক্তিক আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব।’ ইরানের সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে, আমেরিকা ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমোজগান প্রদেশের একাধিক জায়গায় হামলা হয়েছে। হামলা হয়েছে, কোহেস্তাক, মিনাব এবং উপকূলীয় শহর বন্দর আব্বাসেও।
আমেরিকা হামলা চালাতেই পালটা জবাব দিতে শুরু করে ইরানের আইআরজিসি। জানা গিয়েছে, বাহরিনে মার্কিন নৌবহরকে নিশানা করে ইরান। একের পর এক ড্রোন আছড়ে পড়ে মার্কিন নৌবহরে। আইআরজিসির তরফে বলা হয়েছে, ‘শত্রুর হামলার জবাব দিতে আইআরজিসি মঙ্গলবার রাত ২.৩০ নাগাদ মার্কিন নৌবহরে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। যুদ্ধ এখনও জারি রয়েছে। যে কোনও হামলার জবাব দিতে ইরান কোনও দ্বিধা করবে না। বরং আরও ভয়ংকর জবাব দিতে আমরা প্রস্তুত।’ আইআরজিসি আরও জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর কাছে তাদের হামলায় ধ্বংস হয়েছে আমেরিকার একটি এমকিউ-৯ ড্রোনও।
