ভারতকে সটান নরক বলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। একের পর এক কুকথার ফোয়ারা ছুটিয়েছেন। নয়াদিল্লির তরফে এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই মন্তব্যের প্রতিবাদে সুর চড়িয়েছে ইরান। ভারতের থেকেও অনেক বেশি শক্তিশালী এবং ঝাঁজাল প্রতিক্রিয়া দিয়েছে ভারতের নানা শহরে অবস্থিত একাধিক ইরানি দূতাবাস। তাদের মত, মার্কিন প্রেসিডেন্ট একটিবার ভারতে আসুন, তারপর বলবেন। স্পষ্ট হিন্দিতে এই পোস্ট করেছে ইরানের দূতাবাস।
একটি পডকাস্টে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ভারত এবং চিন-সহ একাধিক দেশকে ‘হেলহোল’ বলে অভিহিত করেছেন। এই ‘হেলহোল’ শব্দটি মূলত ব্যবহার হয় এমন কোনও অপরিষ্কার জায়গা বোঝাতে, যেখানে চূড়ান্ত অব্যবস্থা এবং অরাজকতা চলছে। এককথায়, হেলহোল শব্দটির অর্থ নারকীয়। এবং ট্রাম্পের কথায়, ভারত একেবারে হেলহোল। দাবি করেন, ভারতের মতো হেলহোল থেকে নবম মাসে আমেরিকায় এসে সন্তানের জন্ম দেওয়া হয়। তারপর সেই সন্তানের গোটা পরিবার আমেরিকায় এসে নাগরিক হয়ে যায়। এখানেই শেষ নয়, মার্কিন মুলুকে কর্মরত ভারতীয়দের নাম না করে ‘ল্যাপটপ থাকা গ্যাংস্টার’ বলেও তোপ দেগেছেন ট্রাম্প।
এহেন কটু কথার জবাবে মুখ খোলেন বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। চরম আপত্তিকর মন্তব্যের পরও সেভাবে কোনও প্রত্যুত্তর দেখা যায়নি ভারত সরকারের তরফে। বিষয়টিকে কার্যত এড়িয়ে যাওয়ার ছলে রণধীর বলেন, ‘এই সংক্রান্ত কিছু রিপোর্ট আমাদের নজরে এসেছে। এবং এই বিতর্ককে এখানেই শেষ করছি আমরা।' কিন্তু এই ইস্যুতে কংগ্রেস তোপ দেগেছে কেন্দ্রকে। কড়া সুরে জানানো হয়েছে, এই ধরনের আপত্তিকর ও ভারত বিরোধী মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানানো উচিত ভারত সরকারের।
নয়াদিল্লির জবাব যাই হোক না কেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পালটা কড়া প্রত্যুত্তর দিয়েছে ইরান। হায়দরাবাদের ইরানি দূতাবাসের তরফে বলা হয়, 'চিন ও ভারত সভ্যতার আঁতুড়ঘর। প্রকৃতপক্ষে নরক হল সেই জায়গা, যেখানে বসে এক যুদ্ধাপরাধী প্রেসিডেন্ট ইরানের সভ্যতাকে ধ্বংস করার হুমকি দিয়েছিলেন।’ আরও একধাপ এগিয়ে মুম্বইয়ের ইরানি দূতাবাসের তরফ থেকে মহারাষ্ট্রের নানা এলাকার ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। সঙ্গে ট্রাম্পের উদ্দেশে বার্তা, 'সাংস্কৃতিক দূষণ থেকে ট্রাম্পকে মুক্ত করার জন্য কেউ ভারতের টিকিট কেটে দিক, তাহলে হয়তো উলটোপালটা বলাটা কমবে। একবার ভারতে আসুন, তারপর বলবেন।' তবে ভারত এই নিয়ে এখনও চুপ।
