এবার যুদ্ধ পৌঁছল ভারতের দোরগোড়ায়। ভারত মহাসাগরে অবস্থিত আমেরিকা-ব্রিটেনের সামরিক ঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়ায় পরপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাল ইরান। এক মার্কিন কর্তাকে উদ্ধৃত করে এমনটাই জানিয়েছে আমেরিকার সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার দিয়েগো গার্সিয়া লক্ষ্য করে পরপর দু’টি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরান। কিন্তু কোনওটাই লক্ষ্যে আঘাত হানতে পারেনি। প্রথম ক্ষেপণাস্ত্রটি মাঝআকাশেই ধ্বংস হয়ে যায়। এরপর মার্কিন যুদ্ধজাহাজ থেকে প্রতিরোধমূলক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ইরানের দ্বিতীয় ক্ষেপণাস্ত্রটিকে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। তবে বিষয়টি নিয়ে পেন্টাগন এখনও পর্যন্ত মুখ খোলেনি। ইরানের ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত দিয়েগো গার্সিয়া। এত দূরের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর মতো ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের কাছে রয়েছে বলে তারা আগে কখনও স্বীকার করেনি। কিন্তু যুদ্ধের ঝাঁজ যখন আরও বৃদ্ধি পেয়েছে, তখনই নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করল তেহরান। এমনটাই মত বিশেষজ্ঞদের।
প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মনীশ তিওয়ারি তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, ‘এই খবর যদি সত্যি হয়, তাহলে এটা স্পষ্ট যে এই যুদ্ধকে বিস্তৃত করছে ইরান। একইসঙ্গে পশ্চিম বিশ্বের উদ্দেশে তারা পরিষ্কার বার্তাও দিচ্ছে।’
উল্লেখ্য, ভারত মহাসাগরে চাগোস দ্বীপে অবস্থিত দিয়েগো গার্সিয়া ব্রিটিশ ভূখণ্ডের অংশ। এই অত্যন্ত কৌশলগত ঘাঁটি। এখানেই যুদ্ধবিমান, বম্বার-সহ একাধিক সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করেছে আমেরিকা। এই ঘাঁটি ব্যবহার করেই আমেরিকা ইরাক এবং আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছিল। চাগোস দ্বীপটিকে মরিশাসের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য কথাবার্তা চালাচ্ছে ব্রিটেন। যদিও দিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটিটিকে তারা মরিশাস সরকারকে শুধুমাত্র লিজ দিতে চায়। কিন্তু ব্রিটেনের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এসবের মাঝেই দিয়েগো গার্সিয়ায় হামলা চালানো ইরান।
