কথায় বলে, সাপের সঙ্গে ঘর করলে সাপের ছোবলও খেতে হয়। ঠিক সেই অবস্থা সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘর পাকিস্তানের। জঙ্গিদের আশ্রয়দাতা পাকিস্তান বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সন্ত্রাসকবলিত দেশ। সম্প্রতি এমনই চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট সামনে আনল 'ইন্সটিটিউট ফর ইকনমিক অ্যান্ড পিস' দ্বারা প্রকাশিত গ্লোবাল টেরোরিজম ইনডেক্স (GTI)। যেখানে দক্ষিণ এশিয়ার সন্ত্রাসের ২০২৬ সালের ভয়াবহ ছবি সামনে এসেছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, পশ্চিম এশিয়ার বুরকিনা ফাসোকে ছাপিয়ে সন্ত্রাসের জেরে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশে পরিণত হয়েছে পাকিস্তান।
টাইমস অফ ইন্ডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ১০ বছরের মধ্যে ২০২৫ সাল ছিল পাকিস্তানের জন্য সবচেয়ে প্রাণঘাতী। এই বছরে ১,০৪৫টি জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং মৃত্যু হয়েছে ১১৩৯ জনের। অর্থাৎ ২০২০ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে পাকিস্তানে জঙ্গি হামলার ঘটনা ৬ গুণ বেড়েছে। গত ১২ বছর ধরে পাকিস্তানে সন্ত্রাসে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ১০ দেশের তালিকায় থাকলেও এবার তারা উঠে এসেছে একেবারে শীর্ষে। পাকিস্তানে সন্ত্রাসের ঘটনায় ব্যাপক বৃদ্ধির জন্য দায়ী করা হচ্ছে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানকে (টিটিপি)। ২০২৫ সালে টিটিপির হামলা ২৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছ। এছাড়া স্বাধীনতাকামী সংগঠন বালোচ লিবারেশন আর্মিও ঘুম ছুটিয়েছে ইসলামাবাদের।
পশ্চিম এশিয়ার বুরকিনা ফাসোকে ছাপিয়ে সন্ত্রাসের জেরে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশে পরিণত হয়েছে পাকিস্তান।
একদিকে পাকিস্তানে সন্ত্রাসের তাণ্ডব যেখানে লাফিয়ে বেড়েছে, সেখানে আগের তুলনায় ভারতের মাটিতে সন্ত্রাসের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সন্ত্রাসে ক্ষতিগ্রস্ত তালিকায় বিশ্বে ভারতের স্থান ১৩ নম্বরে থাকলেও দেশের জিটিআই স্কোর ৬.৪২৮। ২০২৫ সালে ভারতে সন্ত্রাসের ঘটনা ৪৩ শতাংশ কমেছে। গত এক দশকে সন্ত্রাস বিরোধী লড়াইয়ে বিরাট সাফল্য পেয়েছে ভারত। যা দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সাফল্যকে তুলে ধরে। রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বের মধ্যে সন্ত্রাসে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল হিসেবে দেখানো হয়েছে দক্ষিণ এশিয়াকে।
এই রিপোর্টেই দেখা যাচ্ছে, সন্ত্রাস মোকাবিলায় ইতিবাচক পারফর্ম করেছে ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলি। যেমন বাংলাদেশে ২০২৫ সালে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ১০০ শতাংশ কমেছে। পাশাপাশি নেপালে গত ৩ বছরে একটিও সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেনি। তালিবান ক্ষমতায় আসার পর আফগানিস্তানেও জঙ্গি হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে আফগানিস্তানের স্থান উঠে এসেছে ১১তে। পাশাপাশি জিটিআই রিপোর্টে সতর্ক করা হয়েছে, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে চলমান সামরিক লড়াইয়ের জেরে দুই দেশের প্রচুর মানুষের মৃত্যু ও বাস্তুচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সীমান্তে নিরাপত্তার কড়াকড়ি না বাড়লে টিটিপির মতো সংগঠন আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে।
