ইজরায়েলর ৭ অক্টোবরের চেয়েও বড় হামলার ব্লুপ্রিন্ট সাজাচ্ছে ইরান (Iran) ! ইজরায়েলের গোয়েন্দা বিভাগের মতে, পরিকল্পনা বাস্তবায়নে হামাসের পাশাপাশি প্রক্সি নেটওয়ার্কগুলিকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। যাতে ইজরায়েলে বহুমুখি হামলা চালানো যায়। ৭ অক্টোবরের হামলা চালিয়েছিল শুধুমাত্র হামাস। হাউথি, হেজবোল্লার মতো সশস্ত্র সংগঠনগুলি এই হামলায় যোগ দেয়নি। রিপোর্ট বলছে, এবার সমস্ত প্রক্সি সংগঠনগুলিকে নিয়ে ইজরায়েলে ভয়ংকর হামলার পরিকল্পনা সাজিয়েছে ইরান।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্টের রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান চাইছে ইজরায়েলে একযোগে হামলা চালাক তাদের চারটি প্রক্সি সংগঠন। যেগুলি হল, লেবাননের হেজবোল্লা, ইয়েমেনের হাউথি, গাজার হামাস এবং ইরাক ও সিরিয়ার ইরানপন্থী মিলিশিয়া। চারটি ফ্রন্ট থেকে হামলা চাললে ইজরায়েলকে সহজে কাবু করা যাবে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইজরায়েলে হামাস হামলা চালালেও বাকিরা সেই যুদ্ধে যোগ দিতে পারেনি। গাজা থেকে ইজরায়েলের গোয়েন্দাদের হাতে যে নথি এসেছিল তাতে জানা যায়, হামাস নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার চেয়েছিলেন হেজবোল্লা ও ইরান একযোগে এই যুদ্ধে যোগ দিক এবং চারিদিক থেকে কোণঠাসা হোক ইজরায়েল। সিনওয়ারের ভাবনা ছিল প্রাথমিক সাফল্যের পর এই সংঘাতে নিজে থেকেই যোগ দেবে হেজবোল্লা ও ইরান। তবে বাস্তবে তা হয়নি।
ইরান চাইছে ইজরায়েলে একযোগে হামলা চালাক তাদের চারটি প্রক্সি সংগঠন। যেগুলি হল, লেবাননের হেজবোল্লা, ইয়েমেনের হাউথি, গাজার হামাস এবং ইরাক ও সিরিয়ার ইরানপন্থী মিলিশিয়া।
মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর যে ইরানে হামলা হতে চলেছে সে তথ্য ইরান ও হেজবোল্লাকে জানায়নি হামাস। হেজবোল্লার তরফে উত্তর প্রান্তে সীমিত হামলা হয়েছিল ঠিকই, তবে সমন্বয়ের অভাবে বড় আকারের হামলার ঘটনা ঘটেনি। ইজরায়েলের গোয়েন্দাদের দাবি, ইরান এবার চাইছে সবকটি সশস্ত্র সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় তৈরি করে ভয়ংকর হামলা চালাতে। সেই লক্ষ্যে যৌথ হামলার ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করা হচ্ছে। ৭ অক্টোবরের চেয়ে চারগুন বড় হামলা চালাতে হামাস ও হেজবোল্লার মধ্যে সমন্বয় বাড়ছে। এর নেপথ্যে রয়েছে ইরান। এই দুই সংগঠন হামলা চালাবে উত্তর ও দক্ষিণ প্রান্ত থেকে।
রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে, ইরানের সামরিক বাহিনী আইআরজিসি, কুর্দ সংগঠনের শীর্ষ কর্তারা হেজবোল্লা, হাউথি ও ইরাকি মিলিশিয়ার কমান্ডারদের সঙ্গে কনফারেন্স কল ও বৈঠক করেছেন হামলার পরিসর আরও বাড়াতে। এদিকে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের যতটুকু সামরিক ক্ষমতা নষ্ট হয়েছে তা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে। সবকটি সংগঠনের মধ্যে অপারেশনাল ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক বাড়ানো হচ্ছে। জানা যাচ্ছে, নিজেদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর পাশাপাশি যৌথ মহড়াও করছে সংগঠনগুলি। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইজরায়েলে ভয়ংকর হামলা চালিয়েছিল হামাস। এই হামলায় মৃত্যু হয়েছিল অন্তত ১২০০ জনের। পাশাপাশি ২৫১ জনকে পণবন্দি করা হয়। পরে হামাসের হেফাজতে তাঁদের বেশিরভাগেরই মৃত্যু হয়।
