ইরানের মানচিত্রে নিজের মুখ, ছারখার খার্গ দ্বীপও! তেহরানের বিরুদ্ধে এআই যুদ্ধ ট্রাম্পের
Amit Kumar Das
বাস্তব যুদ্ধের পরিণতি যাই হোক না কেন, ডিজিটাল যুদ্ধে ইরানকে দুরমুশ করতে কোনও খামতি রাখছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হতেই সোশাল মিডিয়ায় ইরানের বিরুদ্ধে পরপর পোস্ট করতে দেখা গেল ট্রাম্পকে। কোথাও, ইরানের মানচিত্র মুছে সেখানে নিজের মুখ বসালেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কোথাও আবার এআই-এর কারসাজিতে ধ্বংস করলেন ইরানের খার্গ দ্বীপ। সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপে তেহরান যে ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়ছে সোশাল মিডিয়ায় সেটাই বোঝানোর চেষ্টা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
এই যুদ্ধে ইরানের বেহাল অবস্থা বোঝাতে সোশাল মিডিয়ায় পরপর পোস্ট করতে দেখা যায় মার্কিন প্রেসিডেন্টকে। প্রথম পোস্টে একটি ছবি প্রকাশ করেন তিনি। যেখানে দেখা যায়, ইরানের মানচিত্রের জায়গায় ট্রাম্পের মুখের অবয়ব। যার মাধ্যমে ট্রাম্পের বার্তা আজ হোক বা কাল ইরান আমেরিকার কবজায় আসতে চলেছে। প্রসঙ্গত, দিন কয়েক আগে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর নাম বদল করে তা 'ট্রাম্প প্রণালী' হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এবার ইরানের মানচিত্র মুছতে দেখা গেল তাঁকে।
আরও পড়ুন:
একটি পোস্টে জ্বলন্ত খার্গ দ্বীপের ছবি তুলে ধরেন ট্রাম্প। যার ক্যাপশনে লেখেন, 'বাই বাই খার্গ'।
পাশাপাশি আরও একটি পোস্টে জ্বলন্ত খার্গ দ্বীপের ছবি তুলে ধরেন ট্রাম্প। যার ক্যাপশনে লেখেন, 'বাই বাই খার্গ'। ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির সবচেয়ে বড় কেন্দ্র এই খার্গ দ্বীপ। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ইরানের সেই তেল কাঠামোর উপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছে একটি যুদ্ধবিমান। গোটা দ্বীপে আগুন জ্বলছে, বিস্ফোরণ হচ্ছে। অর্থাৎ মার্কিন হামলায় ধ্বংস হয়েছে দ্বীপটি। উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে এই দ্বীপের উপর নজর রয়েছে আমেরিকার। এমনকী একটা সময় শোনা যাচ্ছিল এই দ্বীপে সেনা নামাবেন ট্রাম্প।
শুধু তাই নয়, একের পর এক সোশাল মিডিয়া পোস্টে ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, মার্কিন হামলায় ধ্বংস হয়ে গিয়েছে ইরানের তেল বাণিজ্য ও অর্থনীতি। ট্রাম্প লেখেন, ২০২৫ সালে ইরান দিনে ২০ লক্ষ ব্যারেল তেল রপ্তানি করত, ২০২৬-এ তা প্রায় শূন্যে নেমে গিয়েছে। পরে অবশ্য কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিতও রয়েছে ওই চার্টে। নৌ অবরোধের জেরে এই অবস্থা বলে দাবি ট্রাম্পের। ইরানি মুদ্রা রিয়ালের বেহাল অবস্থার কথা তুলে ধরে লেখেন, গত বছর ডলার পিছু রিয়ালের দাম ছিল ৯ লক্ষ। বর্তমানে তা ২২ লক্ষ ৭০ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছ। ডলারের তুলনায় দ্রুত কমছে রিয়ালের দাম।