পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের অবসান ঘটাতে আমেরিকাকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তরে রাজি ইরান। দুই মার্কিন কর্তাকে উদ্ধৃত করে এমনটাই দাবি করেছে আমেরিকার সংবাদমাধ্যম ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’। বলে রাখা ভালো, যুদ্ধবিরতির জন্য ইরানকে যে পাঁচ দফা শর্ত দিয়েছিল আমেরিকা, তার মধ্যে অন্যতম ছিল সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর। এখন প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি এবার থামছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ?
রবিবার সকালেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, শান্তিচুক্তির বেশিরভাগটাই মেনে নিয়েছে ইরান। দীর্ঘ এই সংঘাত থামার ইঙ্গিতও দেন তিনি। তারপরই তেহরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের বিষয়টি প্রকাশ্যে এল। তবে ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউরেনিয়াম নিষ্কাশনের সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া, কীভাবে ইরান সেগুলি হস্তান্তর করবে, তা নিয়ে এখনও বিস্তারিত আলোচনা হয়নি দু’দেশের। এদিকে কয়েকদিন আগে ইরানের সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেই ট্রাম্পের দাবি খারিজ করে জানিয়ে দিয়েছিলেন, ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে যাবে না। কিন্তু আচমকা কী হল ইরানের? মার্কিন প্রেসিডেন্টের ‘রক্তচক্ষু’তে কি নতি স্বীকার করল তেহরান? উঠছে প্রশ্ন। যদিও গোটা বিষয় নিয়ে ইরানের তরফে এখনও কিছু জানানো হয়নি।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার তথ্যানুযায়ী, ইরানের কাছে প্রায় ৪০০ কিলোগ্রাম ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা পরমাণু অস্ত্র নির্মাণের জন্য উপযুক্ত মাত্রার কাছাকাছি। ইজরায়েলি কর্তাদের দাবি, এই ইউরেনিয়াম যদি আরও পরিশোধন করা হয়, তাহলে এগুলি থেকে একাধিক পরমাণু বোমা তৈরি করা সম্ভব, যা অত্যন্ত ভয়ংকর। ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানের বেশিরভাগ ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে ইসফাহান পারমাণু কেন্দ্রে। সেখানেই নয়া হামলার পরিকল্পনা করেছিল মার্কিন সেনা। কিন্তু এসবের মাঝেই জানা যাচ্ছে, আমেরিকাকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তরে রাজি তেহরান।এরপর কি যুদ্ধ থামবে? সেই দিকেই নজর এখন গোটা বিশ্বের।
প্রসঙ্গত, শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে আমেরিকা ইরানকে যে ৫ দফা শর্ত দিয়েছিল তার মধ্যে তেহরানকে একটি পরমাণু ঘাঁটি চালু রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, যুদ্ধের জেরে ইরান যে ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছিল আমেরিকার কাছে, তা কোনওভাবেই দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দেয় ওয়াশিংটন। মার্কিন দাবি অনুযায়ী, ইরানকে ৪০০ কিলোগ্রাম ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতে হবে। অপরপক্ষে, আমেরিকা ইরানের যে বৈদেশিক সম্পদ বাজেয়াপ্ত করেছে তার ২৫ শতাংশ ফেরানো হবে বলে 'প্রতিশ্রুতি' দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
