কয়েকদিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ''আমরা বিমান নিয়ে তেহরানে উড়ে বেড়াচ্ছি। কিন্তু ওরা কিচ্ছু করতে পারছে না।'' শুক্রবারই সেই মার্কিন অহংয়ে জোড়া 'তির' নিক্ষেপ করল ইরান। তেহরানের হামলায় একটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ও একটি এ-১০ যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ার ঘটনায় এখনও নিখোঁজ এক পাইলট। মনে করা হচ্ছে তিনি ইরানের যুদ্ধ-উপদ্রুত অঞ্চলেই ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তাঁর খোঁজে সেখানে প্রবেশ করা দুই ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারও তেহরানের হামলার মুখে পড়েছে। তবে কোনওমতে এলাকা ছেড়ে বাইরে আসতে পেরেছে মার্কিন হেলিকপ্টারগুলি। গোটা ঘটনায় আমেরিকার সামরিক অহং যে ভালোমতোই নাড়া খেয়েছে তাতে নিশ্চিত ওয়াকিবহাল মহল।
উল্লেখ্য, প্রথমে খবর মিলেছিল একটি এফ-১৫ই ভেঙে পড়েছে ইরানে। ওই যুদ্ধবিমানে ছিলেন দুই ক্রু সদস্য। একজনকে উদ্ধার করা গেলেও আরেকজন এখনও নিখোঁজ। অন্যদিকে পরে জানা যায়, হরমুজের কাছে একটি এ-১০ যুদ্ধবিমানও ভেঙে পড়েছে। তবে সেই বিমানটি থেকে পাইলটকে উদ্ধার করা গিয়েছে। একদিনে জোড়া মার্কিন যুদ্ধবিমান গুঁড়িয়ে দিয়ে আমেরিকাকে বড় চ্যালেঞ্জ ছুড়ল ইরান, মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এই দুই যুদ্ধবিমান ধ্বংসের বিষয়টি ইরান ও আমেরিকা দুই পক্ষই মেনে নিয়েছে। এর আগে একটি মার্কিন এফ-৩৫ বিমানও ধ্বংসের দাবি করেছিল তেহরান। তবে সেবার হোয়াইট হাউস দাবি করেছিল, যুদ্ধবিমানটিকে ইরান নিশানায় আনলেও শেষপর্যন্ত নিরাপদেই ঘাঁটিতে ফিরতে পেরেছে সেটি।
এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্প সেদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নিখোঁজ পাইলটের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। জানা যাচ্ছে, ‘শত্রুপক্ষের কোনও সদস্যকে’ আটক বা হত্যা করতে পারলে পুরস্কার দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন এক আঞ্চলিক কর্মকর্তা। এদিকে হোয়াইট হাউসে বসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পাইলটের উদ্ধার অভিযান সম্পর্কে 'রিয়েল টাইম' অর্থাৎ তাৎক্ষণিক তথ্য পাচ্ছেন। পুরো বিষয়টিকেই তিনি লঘু করে দেখাতে চাইছেন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁকে যখন জিজ্ঞেস করা হয় যে ঘটনাগুলি যুদ্ধবিরতির আলোচনার উপরে কোনও প্রভাব ফেলবে কি না, তখন তিনি বলেন, "না, একদমই না। এটা একটা যুদ্ধ।"
