তেহরানের হামলায় একটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ও একটি এ-১০ যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ার ঘটনায় এখনও নিখোঁজ এক পাইলট। তিনি এখনও ইরানেই রয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। যে কোনও যুদ্ধেই কোনও যোদ্ধার জন্য এটা বিপজ্জনক পরিস্থিতি। এমন অবস্থায় কীভাবে টিকে থাকেন একজন মার্কিন পাইলট? মার্কিন বায়ুসেনা অবশ্য এর জন্য নির্দিষ্ট পরিকল্পনা আগেই করে রাখে। সেইমতো প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। উদ্দেশ্য, বিপজ্জনক অবস্থাতেও যাতে নিজেকে 'একলা' না মনে হয় পাইলটের। এবং টিকে থাকার যাবতীয় সরঞ্জামও তাঁর সঙ্গেই থাকে।
এই ধরনের পরিস্থিতিতে মার্কিন পাইলটের মন্ত্র SERE। অর্থাৎ সারভাইভাল, ইভেশন, রেজিস্ট্যান্স ও এস্কেপ। বাংলায় যা দাঁড়ায় বেঁচে থাকা, পলায়ন, উদ্ধার এবং এড়িয়ে চলা। অর্থাৎ শত্রু এলাকায় বিপন্ন অবস্থাতেও নিজেকে সুরক্ষিত রেখে ফের নিরাপদ অঞ্চলে ফিরে যাওয়াই লক্ষ্য থাকে। আর সেজন্য বিমান থেকে প্যারাশ্যুটে লাফিয়ে পড়ার সময়ই তাঁর সঙ্গে থাকে এক সারভাইভ্যাল কিট! এটাই হয়ে ওঠে লাইফলাইন!
কী কী থাকে সেখানে? এর মধ্যে থাকে স্মোক বম্ব, স্ট্রোব লাইট ও গ্লো স্টিকের মতো টুল, যা নিজের উপস্থিতি উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারকে ইশারা করতে কাজে লাগে। থাকে ওষুধ, খাবার দাবার, জল। মোটামুটি দিন সাতেক টিকে থাকার মতো জল ও খাবার থাকে বলে জানা য়াচ্ছে। পাশাপাশি থার্মাল ব্ল্যাঙ্কেটের মতো এক জরুরি কম্বলও থাকে সেখানে। যার সাহায্যে বৃষ্টি, গরমের মতো প্রতিকূলতার মোকাবিলা করা সম্ভব। থাকে আত্মরক্ষার সরঞ্জামও। অর্থাৎ রাইফেল। কেবল সেটা অ্যাসেম্বল করে নেওয়া অর্থাৎ যন্ত্রাংশ জুড়ে আগ্নেয়াস্ত্র হিসেবে গড়ে তোলা। তাহলেই শত্রুদের হামলারও জবাব দেওয়া সম্ভব। কিটের ভিতরে থাকে 'সি ডাই' অর্থাৎ একধরনের রাসায়নিক যা গায়ে মেখে নিয়ে সমুদ্রে ভাসলেও আকাশ থেকে হেলিকপ্টার চিহ্নিত করতে পারবে তাঁকে। কেননা সেই রাসায়নিক থেকে আলো ঠিকরে বেরোয়! পাশাপাশি দেশলাই, আলো, রান্নার সরঞ্জামও থাকে কিটে। সব মিলিয়ে ওই কিট সঙ্গে থাকলে শত্রুর ডেরাতেও নিজের মতো করে টিকে থাকা সম্ভব। যা এই মুহূর্তে ইরানে লুকিয়ে থাকা মার্কিন পাইলটকেও সাহায্য করছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
