মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের মাঝেই ইরানের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুললেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তাঁর অভিযোগ, ইরান তাঁর এক পুত্রকে হত্যার চেষ্টা করেছিল। যদিও কবে, কোথায় তাঁর পুত্রের উপর হামলার চেষ্টা হয় সে বিষয়ে বিশদে কিছুই জানাননি নেতানিয়াহু। অবশ্য এই গুপ্তহত্যার ষড়যন্ত্রের বিষয়টি কয়েকমাস আগেই সামনে এসেছিল। নিষেধাজ্ঞার জেরে সরকারিভাবে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এবার ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নিজের এই তথ্য সামনে আনলেন।
গত সোমবার ইজরায়েলের সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১৪-কে ফোনে সাক্ষাৎকার দিচ্ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। সেখানেই 'দ্য জেরুজালেম পোস্ট'-এ প্রকাশিত নেতানিয়াহু পুত্রের উপর হামলার চেষ্টার বিষয়টি ওঠে। উত্তরে নেতানিয়াহু বলেন, "এটি অবিশ্বাস্য একটি ঘটনা। ইরান আমার এক ছেলেকে নিশানা করেছিল। ইরান তাকে হত্যার চেষ্টা করেছিল।" তবে নেতানিয়াহুর দুই পুত্রের মধ্যে কাকে নিশানা করা হয়েছিল তা স্পষ্ট করা হয়নি। ইরানের তরফেও এখনও এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
নেতানিয়াহুর অভিযোগ, ইরান তাঁর এক পুত্রকে হত্যার চেষ্টা করেছিল। যদিও কবে, কোথায় তাঁর পুত্রের উপর হামলার চেষ্টা হয় সে বিষয়ে বিশদে কিছুই জানাননি।
নেতানিয়াহুর মোট ৩ সন্তান রয়েছে। তাঁর বড় ছেলে ইয়াইর নেতানিয়াহুর বয়স ৩৫ বছর। তিনি ২০২৪ সাল থেকে আমেরিকার মিয়ামিতে বাস করছেন। তিনি ইজরায়েলের নিরাপত্তা বিভাগ শিন বেতের নিরাপত্তা পান। তাঁর ছোট ছেলে আভন ইজরায়েলে থাকলেও প্রচার বিমুখ। জনসমক্ষেও খুব একটা দেখা যায়নি তাঁকে। এছাড়া নেতানিয়াহুর এক কন্যাও রয়েছে। তাঁর নাম নোয়া নেতানিয়াহু-রথ। তিনি জেরুজালেমের বাসিন্দা।
উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের মাটিতে যৌথভাবে হামলা চালিয়েছিল আমেরিকা ও ইজরায়েল। সেই হামলায় মৃত্যু হয় তৎকালীন সুপ্রিম লিডার আয়াতল্লা আলি খামেনেই-সহ তাঁর পরিবারের চার সদস্যের। তাঁদের মধ্যে ছিলেন তাঁর মেয়ে বুশরা ও ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা। কোনওমতে বেঁচে যান খামেনেইয়ের পুত্র মোজতবা। খামেনেই পরিবারের সদস্যদের হত্যার প্রতিশোধ নেওয়া হবে বলে আগেই জানিয়েছিল ইরান। এবার গুপ্তহত্যার ষড়যন্ত্রের বিষয়টি প্রকাশ করলেন নেতানিয়াহু।
