ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ শেষ হয়েও কিছুতেই থামছে না। দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ থামিয়ে মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে। শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা চলছে (Iran-US Peace Deal)। তা সত্ত্বেও রবিবার একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা করেছে দুই দেশ। সেই আক্রমণের কয়েকঘণ্টা পরে আবারও সংঘাত থামাতে উদ্যোগী হয়েছে দুপক্ষ, এমনটাই সূত্রের খবর। তেহরান এবং ওয়াশিংটনের প্রতিনিধিরা মঙ্গলবার বৈঠকে বসবেন বলেও জানা গিয়েছে।
শনিবার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ভাণ্ডারে হামলা চালিয় মার্কিন সেনা। নিশানা করা হয় উপকূলীয় রাডার কেন্দ্রগুলিকেও। তার জবাব দিতেই রবিবার কুয়েত এবং বাহরিনের মার্কিন ঘাঁটিতে গোলাবর্ষণ করে তেহরান। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি) একটি বিবৃতিতে অভিযোগ করেছে, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে আমেরিকা। তাদের সতর্কবার্তা, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত মউ লঙ্ঘন করলে চলমান সমস্ত কূটনৈতিক প্রক্রিয়া থমকে যাবে। ইরানের হুঁশিয়ারি, আমেরিকা এবার নরকযন্ত্রণা ভোগ করবে। উপসাগরীয় দেশগুলিকেও সতর্ক করেছে ইরান।
এই হামলার পরেই আমেরিকার এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, সমস্ত রকম আক্রমণাত্মক কার্যকলাপ আপাতত বন্ধ রাখছেন তাঁরা। সেই প্রস্তাবে রাজি হয়েছে ইরানও। দুই পক্ষ যুদ্ধ থামানোর ফলে জাহাজ চলাচলে কোনও বাধা থাকবে না। মার্কিন সংবাদপত্র অ্যাক্সিওস সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার ফের শান্তিচুক্তি নিয়ে বৈঠকে বসবে ইরান এবং আমেরিকা। দোহায় হবে এই আলোচনা। উল্লেখ্য, প্রায় দিনদশেক আগে শান্তি ফেরাতে মউ সই করেছে দুই দেশ। কিন্তু তারপর বৈঠক করেও শান্তিচুক্তি এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত করা যায়নি।
সমঝোতাপত্রের ১৪ দফা শর্ত বাস্তবায়িত এবং পর্যালোচনা করতেই মুখোমুখি হয় দুই পক্ষ। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির জেরে মাঝপথেই বৈঠক ছেড়েছিল ইরান। কিন্তু বৈঠক একেবারে ব্যর্থ হয়নি। চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে এই বৈঠকে ৬০ দিনের যে রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে, তাতে সম্মত হয় দুই দেশ। কিন্তু পরবর্তী বৈঠকের আগেই বারবার সংঘাতে জড়িয়েছে তারা। ফলে প্রশ্ন উঠছে, মধ্যপ্রাচ্যে আদৌ শান্তি ফিরবে কি?
