shono
Advertisement
Iran War

হরমুজ উদ্ধারে মধ্যপ্রাচ্যে সেনা পাঠাচ্ছেন ট্রাম্প! এবার ইরানের বুকে ছুটবে ‘মার্কিন বুট’?

ইরাক, আফগানিস্তান-সহ একাধিক দেশে সেনা পাঠিয়ে স্থল অভিযানের বহু ইতিহাস রয়েছে আমেরিকার। কিন্তু ইরানের ভিতরে প্রবেশ করে অভিযান চালানো কি সহজ হবে আমেরিকার জন্য? উত্তর হল না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মুহূর্তে ইরানে স্থল অভিযান ওয়াশিংটনের জন্য যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ। ২০০৩ সালে যখন ইরাকে সেনা পাঠিয়েছিল আমেরিকা তখন পরিস্থিতি ভিন্ন ছিল। দীর্ঘ যুদ্ধ এবং নিষেধাজ্ঞায় দুর্বল হয়ে পড়েছিল ইরাক। কোমড় ভেঙে গিয়েছিল সে দেশের সেনাবাহিনীর। কিন্তু ইরানের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা।
Published By: Subhodeep MullickPosted: 10:15 AM Mar 19, 2026Updated: 10:16 AM Mar 19, 2026

‘তৈল ধমনী’ হরমুজ প্রণালীকে ইরানের হাত থেকে মুক্ত করতে বদ্ধপরিকর আমেরিকা। বুধবারই ইরানের কাছে ৫০০০ পাউন্ডের ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা ফেলেছিল ওয়াশিংটন। এবার হরমুজ উদ্ধারে আরও বড় সিদ্ধান্ত। মধ্যপ্রাচ্যে সেনা পাঠানোর চিন্তাভাবনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে তেমনটাই দাবি করা হয়েছে। এরপরই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি এবার ইরানের মাটিতে প্রবেশ করে ভয়ংকর হামলা চালাবে মার্কিন সেনা?

Advertisement

মার্কিন প্রশাসনের একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানিয়েছে, ইরানের শাসন ব্যবস্থাকে উপরে ফেলতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ আমেরিকা। সেই লক্ষ্যে এবার মধ্যপ্রাচ্যে হাজার হাজার সেনা পাঠানোর চিন্তাভাবনা শুরু করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে তার আগে আমেরিকার লক্ষ্য হল অবরুদ্ধ হরমুজকে ইরানের হাত থেকে মুক্ত করা। যাতে নিরাপদে সেখান দিয়ে জাহাজ চলাচল করতে পারে। শুধু তা-ই নয়, রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তৈল শিল্পের ‘প্রাণভোমরা’ খার্গ দ্বীপের উপরেও লোলুপ দৃষ্টি পড়েছে আমেরিকার। যদিও এই গোটা বিষয় নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্তা জানিয়েছেন, “এই মুহূর্তে মধ্যেপ্রাচ্য কিংবা ইরানে সেনা পাঠানো নিয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সমস্ত দিক বিবেচনা করছেন।”

আফগানিস্তান-সহ একাধিক দেশে সেনা পাঠিয়ে স্থল অভিযানের বহু ইতিহাস রয়েছে আমেরিকার। কিন্তু ইরানে প্রবেশ করে অভিযান চালানো কি সহজ হবে আমেরিকার জন্য?

ইরাক, আফগানিস্তান-সহ একাধিক দেশে সেনা পাঠিয়ে স্থল অভিযানের বহু ইতিহাস রয়েছে আমেরিকার। কিন্তু ইরানে প্রবেশ করে অভিযান চালানো কি সহজ হবে আমেরিকার জন্য? উত্তর হল না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মুহূর্তে ইরানে স্থল অভিযান ওয়াশিংটনের জন্য যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ। ২০০৩ সালে যখন ইরাকে সেনা পাঠিয়েছিল আমেরিকা তখন পরিস্থিতি ভিন্ন ছিল। দীর্ঘ যুদ্ধ এবং নিষেধাজ্ঞায় দুর্বল হয়ে পড়েছিল ইরাক। কোমড় ভেঙে গিয়েছিল সে দেশের সেনাবাহিনীর। কিন্তু ইরানের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। ইরান অনেক বড় দেশ, জনসংখ্যা বেশি এবং তাদের সামরিক পরিকাঠামোও অনেক বেশি সংগঠিত এবং উন্নত। শুধু তা-ই নয়, ইরানের ভিতর প্রবেশ করে হামলা চালালে বহু 'ফ্রন্টে' যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেক্ষেত্রে ইরানের পাশে দাঁড়াবে লেবাননের হেজবুল্লা এবং ইয়েমেনের হাউথি-র মতো সসস্ত্র সংগঠনগুলি।

অন্যদিকে, এধরনে যুদ্ধ প্রচুর ব্যয়বহুল। খরচ হতে পারে শত শত বিলিয়ান ডলার। এর জেরে চাপ পড়তে পারে আমেরিকার অর্থনীতিতে। ফলে নিজ ভূমেই কোণঠাসা হতে পারেন ট্রাম্প। এখানেই শেষ নয়, এত বড় মাপের অভিযানের ফলে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হবে। সেক্ষেত্রে একযোগে আমেরিকার বিরুদ্ধে চলে সিংহভাগ দেশই।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement