যুদ্ধকালীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে শান্তিচুক্তির আলোচনা, সর্বত্র লাগামহীন আধিপত্য চালাচ্ছে ইরানের 'ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস' বা 'আইআরজিসি'। এই ঘটনায় যারপরনাই ক্ষুব্ধ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেস্কিয়ান। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর আকার নিয়েছে যে তিনি নাকি দেশের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেইয়ের কাছে নিজের ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এই তথ্য সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। যদিও সেই দাবি পুরোপুরি খারিজ করে দিয়েছে ইরান।
সম্প্রতি ব্রিটেনের এক সংবাদমাধ্যমের তরফে দাবি করা হয়, আইআরজিসির বিরুদ্ধে একরাশ অভিযোগ তুলে খামেনেইয়ের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন ইরান প্রেসিডেন্ট পেজেস্কিয়ান। যেখানে তিনি নাকি অভিযোগ করেছেন, আইআরজিসি স্বেচ্ছাচারিতা চালাচ্ছে। দেশের নির্বাচিত সরকারকে এড়িয়ে নিজেরাই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। দিনের পর দিন এই পরিস্থিতির জেরে তৈরি হওয়া শূন্যতা আইআরজিসি-র ভেতরের কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে শক্তিশালী করেছে। তারাই ক্রমশ দেশটির নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করেছে। আইআরজিসি-র আধিপত্যের কারণে তিনি সরকার পরিচালনা এবং তার আইনগত দায়িত্ব পালনে অক্ষম হয়ে পড়েছেন।
ব্রিটেনের এক সংবাদমাধ্যমের তরফে দাবি করা হয়, আইআরজিসির বিরুদ্ধে একরাশ অভিযোগ তুলে খামেনেইয়ের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন ইরান প্রেসিডেন্ট পেজেস্কিয়ান।
তবে বিদেশি সংবাদমাধ্যমের তরফে এই দাবি করা হলেও তা পুরোপুরি খারিজ করে দিয়েছে ইরান। সরকারি সূত্রকে উদ্ধৃত করে ইরানের সংবাদমাধ্যমের তরফে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্ট পদত্যাগ করেননি। তিনি এই কঠিন সময়ে নিজের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছেন। পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের যোগাযোগ ও তথ্য বিভাগের উপ-প্রধান সৈয়দ মেহেদি তাবাতাবাই এই ইস্যুতে এক্স হ্যান্ডেলে বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, 'এই কুখ্যাত বিদেশি নেটওয়ার্কের কাজই হল গুজব রটানো। এরা শুরু থেকেই এমন বহু হাস্যকর দাবি করে এসেছে। যা ভিত্তিহীন। বাস্তবতার পরিবর্তে নিজেদের মনগড়া কল্পনা।' তিনি আরও লিখেছেন, 'প্রেসিডেন্ট যেমন ইরানের জাতীয় সংহতি ও প্রতিরোধের পথ থেকে সরে আসবে না ঠিক তেমনই জনগণের সেবা থেকেও পিছু হঠবেন না। ইরানের ঐক্য ভেঙে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে তাদের কবরে ঠাই হবে।'
