মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বারণ উপেক্ষা করে লেবাননে ফের হামলা চালাল ইজরায়েল। শুক্রবার ভোরে লেবাননের অন্তত দু’টি শহরে বোমাবর্ষণ করেছে তেল আভিভ। তবে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর মেলেনি। হামলার কয়েকঘণ্টার মধ্যেই পালটা জবাব দিয়েছে ইরান মদতপুষ্ট লেবাননের সশস্ত্র বিক্ষুদ্ধ গোষ্ঠী হেজবুল্লা।
হেজবুল্লার তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি বিবৃতি জারি করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, শুক্রবার ভোরে লেবাননের অন্তত দু’টি শহরে ভয়াবহ হামলা চালায় ইজরায়েল। লাগাতার বোমাবর্ষণ করা হয়। ধ্বংস হয়ে গিয়েছে অসংখ্য বাড়িঘর। এই হামলার জবাবে সকাল আটটা নাগাদ ইজরায়েলের কিরিয়াত শেমোনা এবং মিসগাভ আম শহরে আমরা প্রত্যাঘাত করেছি। ইজরায়েলে পালটা হামলাকে তারা ‘প্রতিপক্ষামূলক পদক্ষেপ’ হিসাবে বর্ণনা করেছে। হেজবুল্লা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ইজরায়েল যদি লেবাননে হামলা না থামায়, তাহলে তারাও প্রত্যাঘাত চালিয়ে যাবে। যদিও এই হামলা নিয়ে এখনও মুখ খোলেনি তেল আভিভ। এদিকে ইরান আগেই জানিয়ে দিয়েছিল, লেবাননে হামলা বন্ধ না হলে তারা সম্পূর্ণ যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার টেবিলে বসবে না। এরপর ট্রাম্পও লেবাননে নতুন করে হামলা চালানো থেকে বিরত থাকতে বলেছিলেন ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্টের কথা অমান্য করে লেবাননে ফের বোমাবর্ষণ করল তেল আভিভ।
প্রসঙ্গত, বুধবারও লেবাননে একের পর এক হামলা চালায় ইজরায়েল। মৃতের সংখ্যা ছাড়ায় ২৫০। আহত প্রায় ১ হাজার ১৬৫ জন। তেল আভিভ দাবি করে, এই হামলায় হেজবোল্লা প্রধান নইম কাসেমের অন্যতম সহকারী, ব্যক্তিগত সচিব তথা ভাগ্নে আলি ইউসুফ হারশিকে নিকেশ করা হয়েছে। এরপরই কড়া সিদ্ধান্ত নেয় ইরান। ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা ও বিদেশ নীতি বিষয়ক কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজাই বলেন, "লেবাননের বিরুদ্ধে বর্বর আগ্রাসনের জবাবে, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল এখনই বন্ধ করে দিতে হবে। লেবাননের জনগণ আমাদের জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাই এক মুহূর্তের জন্যও আমরা ওঁদের একা ফেলে রাখতে পারি না। যুদ্ধবিরতি যদি হয়, তবে তা হতে হবে সব রণাঙ্গনে। নতুবা কোনও রণাঙ্গনেই তা কার্যকর হবে না।"
