লেবাননে ইজরায়েলের হামলায় শিকেয় উঠেছে যুদ্ধবিরতি। নতুন করে যুদ্ধের আগুন ছড়িয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। এরই মাঝে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলল ইজরায়েল। ভারতে নিযুক্ত ইজরায়েলি রাষ্ট্রদূত রুভেন আজার জানিয়ে দিলেন, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে একেবারেই বিশ্বাসযোগ্য নয় পাকিস্তান। এমনকী এই ভূমিকায় পাকিস্তানকে আমেরিকা দ্বারা ব্যবহার করা হয়েছে বলে কার্যত দাবি করলেন ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত।
সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত বলেন, "আমরা পাকিস্তানকে বিশ্বাসযোগ্য পক্ষ হিসেবে দেখি না।" তাঁর কথায়, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানকে বেছে নেওয়ার পিছনে আমেরিকার নিজস্ব কারণ থাকতে পারে। আজার বলেন, অতীতে হামাসের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছনোর জন্য আমেরিকা কাতার ও তুরস্কের মতো দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করেছে। তবে এ কথাও তিনি স্বীকার করেন, কাঙ্খিত ফলাফল অর্জনের জন্য ইজরায়েলের পক্ষে আমেরিকার সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখাটা জরুরি।
ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত বলেন, "আমরা পাকিস্তানকে বিশ্বাসযোগ্য পক্ষ হিসেবে দেখি না।"
আজার আরও বলেন, "ইজরায়েলের লক্ষ্য ছিল ইরানের শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করা এবং ইরানের জনগণের ভবিষ্যৎকে দুর্বল করা এবং ইরানের নাগরিকদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ দেওয়া যা আমরা অর্জন করেছি। তবে ইরানের শাসনব্যবস্থা যদি কূটনৈতিক আলোচনার পথ না রাখে তবে ইজরায়েল ফের সামরিক পদক্ষেপ করতে দ্বিধা করবে না। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুরও এই বিষয়ে একই মত।"
এদিকে ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে দুই সপ্তাহের সংঘর্ষবিরতি কার্যকর হলেও লেবাননকে কেন্দ্র করে তা ভাঙার মুখে। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স জানিয়েছেন, এই সংঘর্ষবিরতি চুক্তিতে লেবাননের কোনও উল্লেখ নেই। ভান্সের কথায়, "লেবাননে হামলা করব না এমন কোনও প্রতিশ্রুতি আমরা দেইনি।'' এদিকে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, "সিদ্ধান্ত আমেরিকাকে নিতে হবে। তারা সংঘর্ষবিরতির পথে হাঁটবে, নাকি ইজরায়েলের কথা শুনে যুদ্ধ জারি রাখবে? কারণ দুটো একসঙ্গে চলতে পারে না।"
