মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিতে কাজ হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে ইজরায়েল-আমেরিকার পাশে দাঁড়ায়নি ইউরোপের বহু দেশ। এবার পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের বিরোধিতা করে ইজরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষাচুক্তি স্থগিত করল ইটালি। সূত্রের খবর, দু’দেশের মধ্যে সামরিক সরঞ্জাম এবং প্রযুক্তি বিনিময়ে প্রতিরক্ষাচুক্ত রয়েছে। এবার সেই চুক্তিই স্থগিত করলেন ইটালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি।
ইটালির সংবাদসংস্থা এএনএসএ এবং এজিআই-এর খবর, ভেরোনাতে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ইটালির প্রধানমন্ত্রী বলেছেন,“বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার ইজরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষাচুক্তির পুনর্নবীকরণ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।” ইটালি সরকারের এক আধিকারিকও প্রতিরক্ষাচুক্তির পুনর্নবীকরণ স্থগিত রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরও দাবি করেছেন, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইজরায়েলের সঙ্গে চুক্তি অব্যাহত রাখা কঠিন হয়ে উঠছিল।
পশ্চিম এশিয়ার সংঘর্ষে আমেরিকার পাশে দাঁড়ায়নি ইউরোপের আরেক শক্তি স্পেন। হাজার হুঁশিয়ারিতেও দেশটির সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে পারেনি পেন্টাগন। আমেরিকার 'বন্ধু' বলে পরিচিত ইটালিও আমেরিকার যুদ্ধের বিরোধিতা করেছে। এই বিষয়ে ইটালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির বক্তব্য, ‘‘এমন সামরিক হস্তক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী একটি বিপজ্জনক প্রবণতা।’’ ইটালির পার্লামেন্টে যুদ্ধ বিরোধী প্রস্তাবও পাশ করেন মেলোনি।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের মাটিতে যৌথ হামলা চালায় আমেরিকা ও ইজরায়েল। কার্যত তছনছ হয়ে গিয়েছে তেহরান-সহ ইরানের একাধিক অঞ্চল। হামলায় মৃত্যু হয়েছে আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর। জবাবে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ছড়িয়ে থাকা আমেরিকার একাধিক সেনাঘাঁটি ও ইজরায়েলে হামলা চালাচ্ছে ইরান। কুয়েত, বাহরিন, ওমান, জর্ডন, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, সৌদি আরব, সিরিয়া, তুরস্কের উপর ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। যুদ্ধে ইরানে মৃতের সংখ্যা দু'হাজার ছাড়িয়েছে। রাশিয়া, চিন, স্পেন, ভারত-সহ একাধিক দেশ শান্তিপ্রস্তাব দিলেও কোনও পক্ষই শুরুতে যুদ্ধ থেকে সরতে রাজি হয়নি। সম্প্রতি দুই সপ্তাহের সংঘর্ষ বিরতিতে রাজি হয় আমেরিকা ও ইরান। পাকিস্তানে শান্তি বৈঠক করেছে দুই দেশ। যদিও এখনও পর্যন্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি ওয়াশিংটন ও তেহরান।
