সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: পাকিস্তান কি পুরোপুরি সেনারই নিয়ন্ত্রণে! সাধারণত দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে রিপোর্ট করেন সেদেশের সেনাপ্রধান। কিন্তু পড়শি দেশের ছবিটা নাকি আলাদা। এমনটাই শোনা যায়। এবার এক সাক্ষাৎকারে ব্রিটিশ-মার্কিন সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে নাকানিচোবানি খেলেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আসিফ খাজা।
মেহদি হাসান নামের ওই সাংবাদিক রীতিমতো শ্লেষাত্মক সুরে তাঁকে প্রশ্ন করেন, ''পাকিস্তানে এটা একটা অদ্ভুত ব্যবস্থা। এটাকে একটা হাইব্রিড মডেল বলা যায়। যেখানে সামরিক ও অসামরিক নেতারা ক্ষমতা ভাগাভাগি করে নেয়। কিন্তু আসলে তো সামরিক নেতারাই দায়িত্বে রয়েছেন, তাই না? বেশিরভাগ দেশে, সেনাবাহিনীর প্রধান প্রতিরক্ষামন্ত্রীর কাছে জবাবদিহি করেন। অথচ আপনার দেশে আপনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে সেনাবাহিনীর প্রধানের কাছে জবাবদিহি করেন, তাই না? আসিম মুনির আপনার চেয়েও বেশি শক্তিশালী!''
জবাবে খাজা আসিফ বলেন, ''না, না। তা নয়। আমি তো একজন রাজনৈতিক কর্মী।'' জবাবে যখন জানতে চাওয়া হয়, দুই ক্ষেত্রেই কি ক্ষমতা সমান! জবাবে খাজা আসিফ বলেন, ''ঠিক সমান নয়। কোনও বিষয়ে আমরা সম্মত হতে পারি, অসম্মতও হতে পারি। তবে যা কিছু ঘটছে, তা সর্বসম্মতিক্রমেই ঘটছে।'' তবে তিনি আমতা আমতা করে একথা বললেও পাকিস্তানের প্রকৃত পরিস্থিতি বিশ্বের কাছে খোলা খাতার মতো।
প্রসঙ্গত, খাজা আসিফ গত মে মাসে অপারেশন সিঁদুরের পর বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন পাকিস্তানের সন্ত্রাসে মদত প্রসঙ্গে। তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছিল, ''পাকিস্তান যে সন্ত্রাসবাদের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। একথা সত্য। আন্তর্জাতিক মহল বারবার পাকিস্তানকেই দায়ী করে এসেছে। এটা ঠিক যে জঙ্গিদের পরিবারের সদস্যরা পাকিস্তানেই বসবাস করেন। কিন্তু পাকিস্তানের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের কোনও সম্পর্ক নেই।'' আগেও আসিফের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্কের ঝড় ওঠে। ‘অপারেশন সিঁদুর’ -এর পর তিনি দাবি করেন, ভারতের পাঁচটি যুদ্ধবিমান গুলি করে নামিয়েছে পাক সেনা। তার মধ্যে তিনটি রাফালে। কিন্তু পাকিস্তান এর স্বপক্ষে কোনও প্রমাণ দিতে পারেনি।
