shono
Advertisement
Venezuela

রাখে হরি, মারে কে! ভূমিকম্পে ১৪০ টন ধ্বংসস্তূপের নিচে, আটদিন পর ভেনেজুয়ালায় উদ্ধার যুবক

গত ২৪ জুন কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে ভেনেজুয়ালায় যথাক্রমে ৭.২ এবং ৭.৫ মাত্রার অতি শক্তিশালী দু'টি ভূমিকম্প হয়। যাতে মৃত্যু হয়েছে প্রায় তিন হাজার মানুষের। এখনও নিখোঁজ পঞ্চাশ হাজার। ভূমিকম্পে একটি শপিং মল ভেঙে পড়েছিল। কিছু বোঝার আগেই তার নিচে চাপা পড়েন হারনান আলবার্তা গিল ফ্লোরেস।
Published By: Kishore GhoshPosted: 12:56 PM Jul 03, 2026Updated: 03:21 PM Jul 03, 2026

এমন ঘটনাকেই বলা উচিত 'রাখে হরি, মারে কে'। ভেনেজুয়ালার ভয়াবহ ভূমিকম্পে ১৪০ টন ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছিলেন ৪৩ বছরের হারনান আলবার্তা গিল ফ্লোরেস। কোনওভাবেই বাঁচার কথা ছিল না তাঁর। উদ্ধারকাজ অব্যাহত থাকলেও ঘটনার পর আটদিন পেরিয়ে গিয়েছিল। হারনানের পরিবারের লোকেরাও ধরে নিয়েছিলেন, চাপা পড়ে না হলেও শ্বাসকষ্টে কিংবা খাবার ও জলের অভাবে মৃত্যু হয়েছে স্বজনের। কেবল উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা হার মানতে চাননি। শেষ দেখে ছাড়েন তাঁরা। শেষ পর্যন্ত অলৌকিক কাণ্ড ঘটে। একটানা ১০০ ঘণ্টার চেষ্টায় জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হল হারনানকে। অনেকেই বলছেন, শুধু রাখে হরি মারে না, এমন ঘটনাকে পুনর্জন্মও বলা যেতেই পারে।

Advertisement

গত ২৪ জুন কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে ভেনেজুয়ালায় যথাক্রমে ৭.২ এবং ৭.৫ মাত্রার অতি শক্তিশালী দু'টি ভূমিকম্প হয়। যাতে মৃত্যু হয়েছে প্রায় তিন হাজার মানুষের। এখনও নিখোঁজ পঞ্চাশ হাজার দেশটির নাগরিক। ওই ভূমিকম্পে একটি শপিং মল ভেঙে পড়েছিল। কিছু বোঝার আগেই তার নিচে চাপা পড়েন হারনান আলবার্তা গিল ফ্লোরেস। এরপর থেকেই শুরু হয়েছিল উদ্ধার অভিযান। যদিও মূল ভূমিকম্পের পর একাধিক 'আফটার শক'-এ বিপদ বাড়ছিল। এর ফলে ১৪০ টন ধ্বংসস্তূপের ভেতরে প্রবেশ করা আরও কঠিন হয়ে উঠছিল। পাশাপাশি গত কয়েকদিন ধরে একটানা বৃষ্টি চলছিল। এই অবস্থায় হারনানের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ছিল টেনেটুনে এক শতাংশ।

তথাপি হাল না ছাড়ার 'পুরস্কার' পেলেন উদ্ধারকারী দল। বলা বাহুল্য, সেই 'পুরস্কার' হারনানের জীবন। আটদিন পর ধ্বংস্তূপ থেকে হারনানকে বের করে আনার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশাল মিডিয়ায়। সেখানে দেখা গিয়েছে,সারা গায়ে ধুলোমাখা, মুখে অক্সিজেন মাস্ক পরা হারনানকে একটি স্ট্রেচারে বের করে আনা হচ্ছে। হেলমেট পরা উদ্ধারকর্মীরা তাঁকে ঘিরে রেখেছেন। দ্রুত অ্যাম্বুল্যান্সে উঠিয়ে তাঁকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। অ্যাম্বুল্যান্সে তোলার সময় রেডক্রসের নেতৃত্বে উদ্ধারকাজ চালানো বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা আনন্দে উল্লাস করেন। কিন্তু হারনান কী বলছেন? তিনি কি কথা বলার মতো অবস্থায় আছেন?

রেড ক্রসের কোস্টারিকান উদ্ধারকর্মী মিনিয়ার কোলাডো সাংবাদিকদের বলেন, "আমরা যখন হারনানকে খুঁজে পেলাম, তখন তিনি আমাদের অনুরোধ করেন, যেন তাঁর স্ত্রীকে তাঁর বেঁচে থাকার কথা এখনই না জানানো হয়, পাছে তিনি শেষ পর্যন্ত বাঁচতে না পারেন।" এই না হলে হার মানা হারনান! কোলাডো আরও বলেন, "আমরা তাঁকে কোনওভাবেই এখানে ফেলে আসতাম না।" কোস্টারিকান উদ্ধারকর্মীর কণ্ঠে বিশ্ব মানবিকতার জয়গান।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement