ভয়ংকর হড়পা বানে বিধ্বস্ত নেপাল। সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা একশো পেরিয়েছে। এহেন পরিস্থিতিতে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহর বার্তা, দেশে একতা বজায় রাখা জরুরি। দেশের সমস্ত কিছু কাজে লাগিয়ে উদ্ধারকাজ চালান হচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। উল্লেখ্য, নেপালে ত্রাণ পাঠাচ্ছে ভারতও। ইতিমধ্যেই বায়ুসেনার বিমান ত্রাণ পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
হড়পা বানের পর সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সময়ে মানুষের প্রাণ বাঁচানোটাই সকলের প্রধান কর্তব্য হওয়া উচিত। এমন বিপর্যয়ের মধ্যে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেকটি এলাকায় মেডিক্যাল টিম পাঠানো হয়েছে। হড়পা বানের কবলে পড়া মানুষের জন্য খাবার-পরিশ্রুত জল এবং আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। অন্তত ১০০টি বেডের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে উদ্ধার করে আনা মানুষের চিকিৎসার জন্য। দেশবাসীকে তাঁর আশ্বাস, "এই কঠিন সময়ে আপনারা একা নন। দেশ নিজের সবটুকু নিয়ে আপনাদের পাশে রয়েছে। একটু ধৈর্য্য় ধরুন।"
উল্লেখ্য, মাত্র ৫ মাস আগে প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে বসেছেন বলেন্দ্র। কিন্তু তার মধ্যেই নেপালের আমজনতা পথে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেছেন বলেন্দ্রর বিরুদ্ধে। কয়েকমাসের মধ্যেই ভারতবিরোধী মন্তব্যও করেছেন। যদিও ভারত যথাযথ প্রতিবেশীর মতো আচরণ করেছে। বলেন্দ্রর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন। উদ্ধারকাজ ও ত্রাণ নিয়ে সাহায্যের বার্তা দিয়েছেন মোদি।
কিন্তু ভারতের পাঠানো ত্রাণ নেবে তো বলেন্দ্রর দেশের মানুষ? ২০১৫ সালে ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর বিপুল ত্রাণ পাঠিয়েছিল ভারত। কিন্তু সেই সাহায্য নিতে অস্বীকার করে নেপালি জনতার একাংশ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকেও সমালোচনার শিকার হতে হয়। এবারও কি সেরকম ঘটনা ঘটতে পারে? ভারতীয় ত্রাণ বা মোদির ফোন নিয়ে বলেন্দ্র আলাদা করে কিছু বলেননি। তবে বলেন্দ্রর দল আরএসপির মুখপাত্র জগদীশ খাড়েল ধন্যবাদ জানিয়েছেন মোদিকে। বলেছেন, ভারত এবং অন্যান্য প্রতিবেশীদের সাহায্য নেপালের পক্ষে অত্যন্ত জরুরি। তাই আরএসপি এবং পুরো নেপালের তরফ থেকে ভারতকে ধন্যবাদ জানানো হচ্ছে।
