নেপালে মহাপ্রলয়ের পর পেরিয়ে গিয়েছে বেশ কিছু দিন। লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। নিখোঁজ বহু। আর এই পরিস্থিতিতে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দেখা মিলল এক কুকুরের। কাদামাখা, বিধ্বস্ত সেই কুকুরটি হাজার বিপর্যয়েও ছেড়ে যায়নি প্রভুর বাসস্থান! যা দেখে বিস্মিত সকলে।
দেখা গিয়েছে সব কিছু ভেসে যাওয়া সত্ত্বেও কাদামাখা সেই অঞ্চলেই রয়েছে কুকুরটা।
ধ্বংসস্তূপের মধ্যেই শুয়ে রয়েছে। যেটা দেখলে এখন বাড়ি বলে চেনাই মুশকিল। কুকুরটি তার করুণ মুখ তুলে তাকাচ্ছে এদিক ওদিক। প্রভু কোথায় সে জানে না। জানে না আর কখনও তাঁকে বা তাঁর পরিবারের কাউকেই দেখতে পাবে কিনা। তবু কী এক অলীক বিশ্বাসে সেখানেই রয়ে গিয়েছে সে। না-মানুষ সেই কুকুরই উঠে এসেছে সকলের আলোচনায়। এলাকার বাসিন্দারা এমন করুণ দৃশ্য দেখে বিস্মিত। এবং একই সঙ্গে তাঁরা অভিভূতও। প্রভুভক্তির এমন নিদর্শন কুকুরদের পক্ষেই হয়তো গড়ে তোলা সম্ভব।
এখানেই শেষ নয়। আরেক কুকুর, নাম তার লিলি। গলায় বাঁধা কলার বুঝিয়ে দিচ্ছে, কারও বাড়িতে বড় যত্নে প্রতিপালিত হত সে। কিন্তু এক মহা বিপর্যয়ে আরও হাজার হাজার মানুষ ও অন্য প্রাণীদের মতো লিলির জীবনটাও এক ঝটকায় বদলে দিয়েছে। যেখানে ছিল প্রভুর বাড়ি, সেখানেই এখনও ঘুরে বেড়াচ্ছে সে। তার প্রভু ভেসে গিয়েছেন জলের তোড়ে। তবু লিলির আশা, তিনি ফিরে আসবেন। জোর করে সরাতে চেষ্টা করলেও সে ফিরে আসছে সেখানেই।
নেপালে বিধ্বংসী বন্যার পর অজ্ঞাতপরিচয় মৃতদেহের গণকবর দেওয়া শুরু হয়েছে। প্রশাসনের তরফে চিতওয়ানের দেবঘাট জঙ্গলে শত শত কবর খুঁড়েছে। পচতে থাকা দেহগুলিকে এখানে কবর দেওয়া হবে। গত ২ দিনে ১৯৬টি দেহ কবর দেওয়া হয়েছে। এমন ভয়ংকর পরিস্থিতিতেও লিলি বা অন্য কুকুরদের এই করুণ কাহিনি বুঝিয়ে দিচ্ছে ধ্বংসের মাঝেই জেগে থাকে প্রেম। জেগে থাকে আস্থা। জেগে থাকে জীবন।
