সন্ত্রাসবাদ কোনও দেশের নীতি হতে পারে না। এসসিও সম্মেলনে পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সামনে কড়া বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মঙ্গলবার এসসিও রাষ্ট্রপ্রধানদের বৈঠকে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে সুর চড়ান তিনি। দাবি জানান, জঙ্গি কার্যকলাপ একেবারে নির্মূল করতে হবে। মুখে সন্ত্রাসদমনের কথা বলে আড়ালে জঙ্গিদের মদত দেওয়া, এই দ্বিচারিতা চলবে না। গোটা বক্তব্যের সময়ে উপস্থিত ছিলেন শাহবাজ।
মঙ্গলবার বিশকেকের মঞ্চ থেকে মোদি বলেন, "সন্ত্রাসবাদ নিয়ে কোনও দ্বিচারিতা চলবে না, সেটা একসুরে বলতে হবে আমাদের সকলকে। যেসব দেশ সন্ত্রাসবাদকে নীতি হিসাবে কাজে লাগায়, জঙ্গিদের আশ্রয় দেয়-সেই দেশগুলিকে কড়া বার্তা দিতে হবে। তাদের স্পষ্ট জানিয়ে দিতে হবে সন্ত্রাসবাদ কোনও দেশের নীতি হতে পারে না।" যদিও নিজের বক্তব্যে পাকিস্তানের নাম উল্লেখ করেননি মোদি। তবে বিশ্লেষকদের মত, এই মন্তব্যের তিরে পাকিস্তানই। সেকারণেই পাক প্রধানমন্ত্রীর সামনে একথা বলেছেন মোদি।
উল্লেখ্য, এসসিও বৈঠকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দেখা করেন মোদি। সোমবার এসসিও সম্মেলনের মাঝেই দ্বিপাক্ষিক বৈঠক সারেন মোদি-পুতিন। সূত্রের খবর, প্রায় ৩০ মিনিট আলোচনা হয় দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে। ইউক্রেনে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করে শান্তি ফেরানোর আর্জি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি মহাত্মা গান্ধী ও গৌতম বুদ্ধের দেশ থেকে শান্তির বার্তা নিয়ে এসেছেন। অন্যদিকে আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধরত ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেসকিয়ানের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন মোদি। মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি, নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা-সহ একাধিক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে তাঁদের।
মঙ্গলবার মোদির বক্তব্যে উঠে আসে বিশ্বজুড়ে চলা যুদ্ধের প্রসঙ্গও। তিনি বলেন, "বর্তমানে সব দেশই একে অপরের সঙ্গে যুক্ত। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ থেকেই বুঝতে পারছি, একটা এলাকায় যুদ্ধ হলেও তার প্রভাব পড়ছে অন্যত্র। জ্বালানি সুরক্ষা, জলপথে বাণিজ্য, পণ্য সরবরাহ-সব কিছুই বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। গ্লোবাল সাউথকেই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হবে।" বরাবরের মতোই মোদি আবারও জানিয়েছেন, যুদ্ধ নয়, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান হওয়া উচিত।
