রবিবারই পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ থামার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, আমেরিকার সঙ্গে চুক্তিতে রাজি ইরান। তেহরানের অনুরোধেই ইরানে সামরিক অভিযান স্থগিত রেখেছেন তিনি। ট্রাম্পের এহেন দাবির পরই আন্তর্জাতিক বাজারে হু হু করে পড়ল অপরিশোধিত তেলের দাম। এর জেরে স্বাভাবিকভাবেই ‘আশার আলো’ দেখছে ভারত।
সোমবার বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক ধাক্কায় প্রায় ৪.৬৪ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ব্যারেল প্রতি ৮৩.৮৫ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, আমেরিকার ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৪.৭৪ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ব্যারেল প্রতি পৌঁছেছে ৮০.৬৬ ডলারে। ফেব্রুয়ারির শেষদিকে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে ব্যাপক ওঠানামা দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তি হলে তার বড় প্রভাব পড়তে পারে ভারতের অর্থনীতিতে। কারণ, ভারত বিশ্বের অন্যতম বড় তেল আমদানিকারক দেশ। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও এলপিজি ভারতে প্রবেশ করে। সুতরাং, এই পথ স্বাভাবিক হলে কমতে পারে ভারতের জ্বালানি আমদানি খরচ। এর ফলে কমবে পেট্রোল-ডিজেলের দাম। পাশাপাশি, অর্থনীতির উপর থেকেও কিছুটা চাপ কমবে।
বিশ্লেষকদের একাংশের বক্তব্য, চুক্তি হলেও তা যে ভঙ্গ হবে না এমন কোনও নিশ্চয়তাও নেই।কারণ, সম্প্রতি দু'দেশের মধ্যে যে খসড়া চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তা দিনকয়েকের মধ্যেই ভেঙে গিয়েছিল। বিশ্লেষকরা আরও জানাচ্ছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে অপরিশোধিত তেলের দাম শীঘ্রই ফের ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার পেরিয়ে যেতে পারে। যার ফলে অনিশ্চয়তার মেঘে ঢাকতে পারে ভারত-সহ গোটা বিশ্ব।
