ইরান-আমেরিকার যুদ্ধবিরতির কৃতিত্ব নিয়ে বুক ফুলিয়ে ঘুরছে পাকিস্তান (Pakistan)। তার মধ্যেই আমেরিকার 'বন্ধু' ইজরায়েলকে (Israel) তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে বসলেন পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, মানবজাতির জন্য ইজরায়েল এক অভিশাপ। যারা এই দেশ প্রতিষ্ঠা করেছে তাদের নরকে যাওয়া উচিত। এহেন বাক্যবাণের পালটা সুর চড়িয়েছে তেল আভিভ।
ভারতীয় সময় বুধবার ভোর থেকে দু’ সপ্তাহ পর্যন্ত সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয়েছে ইরান এবং আমেরিকা। প্রথমে মধ্য়স্থতাকারী পাকিস্তানের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছিল, এই সংঘর্ষবিরতির আওতায় পড়বে লেবাননও। কিন্তু সেই দাবি উড়িয়ে দেয় তেল আভিভ। ইরানে হামলা বন্ধ থাকলেও লেবাননে মুহুর্মুহু আক্রমণ শানিয়েছে ইজরায়েলি ফৌজ। একদিনে লেবাননে অন্তত আড়াইশো জনের মৃত্যু হয়েছে। তারপরেই এক্স হ্যান্ডেলে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন পাক মন্ত্রী। তবে কয়েকঘণ্টার মধ্যে আবার সেই পোস্ট ডিলিটও করেছেন।
বিশ্লেষকদের অনেকের মত, পাকিস্তান খানিকটা ইচ্ছা করেই আক্রমণ করেছে ইজরায়েলকে। কারণ ইরান-আমেরিকার সংঘর্ষবিরতিতে পাকিস্তান মধ্যস্থতা করেছে এবং সেই যুদ্ধবিরতি দীর্ঘস্থায়ী না হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
আসিফের কথায়, 'একদিকে শান্তি ফেরাতে ইসলামাবাদে বৈঠক চলছে, কিন্তু লেবাননে গণহত্যা চালাচ্ছে। প্রথমে গাজা, তারপর ইরান, এখন লেবানন-সাধারণ মানুষকে হত্যা করে চলেছে ইজরায়েল। এই দেশটা মানবজাতির জন্য একটা অভিশাপ। আমি আশা করি, প্রার্থনা করি, যারা এই ক্যানসারের মতো দেশটা তৈরি করেছিল ইউরোপীয় যিহুদিদের জন্য, তারা যেন নরকে পুড়ে মরে।' পাকিস্তানের এমন বাক্যবাণে স্বভাবতই ক্ষোভ উগরে দিয়েছে তেল আভিভ। ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, যে দেশ নিজেদের শান্তিস্থাপনের কাণ্ডারী বলে দাবি করে তাদের থেকে এমন মন্তব্য মোটেই বরদাস্ত করা হবে না।
দুই দেশের এই বাগযুদ্ধের কারণ কী? বিশ্লেষকদের অনেকের মত, পাকিস্তান খানিকটা ইচ্ছা করেই আক্রমণ করেছে ইজরায়েলকে। কারণ ইরান-আমেরিকার সংঘর্ষবিরতিতে পাকিস্তান মধ্যস্থতা করেছে এবং সেই যুদ্ধবিরতি দীর্ঘস্থায়ী না হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। তাই ইজরায়েলকে উসকে দিয়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করানোর চেষ্টা করছে ইসলামাবাদ, মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। উল্লেখ্য, শুক্রবার পাকিস্তানের মাটিতে বৈঠকে বসবে ইরান-আমেরিকা। সেখানে ইজরায়েল প্রসঙ্গে তুমুল মতপার্থক্য হতেই পারে। ভেস্তে যেতে পারে সংঘর্ষবিরতি। তাই আগে থেকেই পিঠ বাঁচানোর চেষ্টা করছে পাকিস্তান?
