ইন্টিমেট হাইজিন নিয়ে সবচেয়ে বড় ভুল ধারণা, 'যত বেশি পরিষ্কার, তত ভালো।' আসলে বিষয়টি ঠিক উলটো। ইন্টিমেট হাইজিন (Intimate Hygiene) মানে অতিরিক্ত পরিষ্কার করা নয়, বরং সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখা। বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশি কেমিক্যাল পণ্য ব্যবহার করলে শরীরের স্বাভাবিক pH নষ্ট হয়, ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।
নিজেই নিজের যত্ন নেয়
যোনি (vagina) নিজেই নিজেকে পরিষ্কার রাখে। কারণ যোনিতে থাকে 'ল্যাক্টোব্যাসিলি' নামের উপকারী ব্যাকটেরিয়া, যা ল্যাকটিক অ্যাসিড তৈরি করে pH ৩.৮-৪.৫-এর মধ্যে রাখে। এই অ্যাসিডিক পরিবেশ ক্ষতিকর জীবাণুকে দূরে রাখে। কিন্তু সাবান, ইন্টিমেট ওয়াশ- এ সবের ব্যবহারে ভালো ব্যাকটেরিয়াগুলো নষ্ট হয়ে যায়। ফলে pH বেড়ে ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজাইনোসিস (BV) বা ইস্ট ইনফেকশনের ঝুঁকি বাড়ে।
pH-এর ভারসাম্য নষ্ট হলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। ছবি: সংগৃহীত
পরিষ্কার রাখার সঠিক উপায়
ভ্যাজাইনা (ভিতরের অংশ): পরিষ্কার করার দরকার নেই। নিজে থেকেই পরিষ্কার হয়ে যায়।
ভলভা (বাইরের অংশ): হালকা গরম জল বা খুব মৃদু সুগন্ধিহীন ক্লিনজার ব্যবহার করতে পারেন। তবে সেটাও নিয়মিত নয়।
দৈনন্দিন অভ্যেসেই সুরক্ষা
- ফ্রন্ট টু ব্যাক মুছুন। টয়লেটের পর সামনে থেকে পেছনের দিকে মুছলে ইউরিন ইনফেকশন (UTI) হওয়ার ঝুঁকি কমে
- সুতির অন্তর্বাস পরুন, যাতে বাতাস চলাচল করতে পারে
- দীর্ঘ সময় টাইট বা সিনথেটিক পোশাক এড়িয়ে চলুন
- ঘাম হলে বা ব্যায়ামের পর দ্রুত পোশাক বদলান
- যৌনমিলনের পর প্রস্রাব করলে সংক্রমণের ঝুঁকি কমে
নিজেই নিজের যত্ন নেয়। ছবি: সংগৃহীত
যেগুলো এড়িয়ে চলা উচিত
- সুগন্ধি স্প্রে বা ডিওডোরেন্ট
- ইন্টিমেট ওয়াইপ
- ডুচিং (ভেতরে জল দিয়ে ধোয়া)
- সাবান বা কেমিক্যালযুক্ত পণ্য
এসব পণ্য স্বাভাবিক pH নষ্ট করে এবং জ্বালা বা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়।
সতর্ক সংকেত চিনুন
স্বাভাবিক ডিসচার্জ হালকা সাদা বা স্বচ্ছ হতে পারে, এটাই স্বাভাবিক। তবে যদি-
- অস্বাভাবিক দুর্গন্ধ হয়
- রং পরিবর্তন হয়ে হলুদ, সবুজ বা ধূসর হয়
- চুলকানি, জ্বালা বা ব্যথা থাকে
এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ইন্টিমেট হাইজিন মানে বেশি কিছু করা নয়, বরং অপ্রয়োজনীয় কিছু না করা। শরীরের স্বাভাবিক সিস্টেমকে কাজ করতে দিন, সামান্য যত্ন নিন- তাতেই অনেক সমস্যা দূরে থাকবে।
