সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সংখ্যালঘুদের উপর অকথ্য অত্যাচার, হিন্দু মহিলাদের উপর নির্যাতন, জোর করে ধর্ম পরিবর্তন পাকিস্তানে অতি সাধারণ ঘটনা। পাক প্রশাসনের মদতে লাগাতার এহেন কুকীর্তির জেরে পাকিস্তানে হিন্দুর সংখ্যা ক্রমশ শূন্যের পথে। এহেন ধর্মীয় উগ্রবাদের দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সে দেশের হিন্দুদের পাঠালেন দীপাবলির শুভেচ্ছা। যার পালটা পাক হিন্দুদের তরফে তীব্র কটাক্ষ শুনতে হল শাহবাজকে। কেউ লিখলেন, '১০-১২ জনই বেঁচে রয়েছেন হোয়াটস অ্যাপ করতে পারতেন।'
সোমবার দীপাবলি উপলক্ষে উৎসবে মেতেছে সারা বিশ্বের হিন্দু সম্প্রদায়। এই পরিস্থিতিতে সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে দীপাবলির শুভেচ্ছা জানান পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, 'দীপাবলির এই শুভ উৎসবে আমি পাকিস্তান ও বিশ্বের সকল হিন্দু সম্প্রদায়কে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানাই। এই উৎসব অন্ধকার দূর করে সর্বত্র আলো ছড়িয়ে দিক, মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি বাড়াক এবং আমাদের সকলকে শান্তি, সহানুভুতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাক।' পাশাপাশি তিনি আরও লেখেন, 'দীপাবলির মূল বার্তা হল আশা, ঐক্য এবং সহনশীলতা। প্রতিটি দেশের কর্তব্য হল তার সমস্ত নাগরিক যাতে নিরাপদ এবং শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারে তা নিশ্চিত করা।'
তবে পাক প্রধানমন্ত্রী গালভরা ভাষণ দিলেও, বাস্তবে পাকিস্তানের মাটিতেই সংখ্যালঘু হিন্দুদের সবচেয়ে বেহাল অবস্থা। সে কথা তুলে ধরেই শাহবাজকে রীতিমতো কটাক্ষ করেন নেটিজেনরা। একজন লিখেছেন, ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানে হিন্দুদের সংখ্যা ছিল ২০ শতাংশ। ২০২৫ সালে সেটাই নেমে দাঁড়িয়েছে ২.৩ শতাংশ। ২০৪০ সালে আসতে আসতে পাকিস্তানে আর কোনও হিন্দু অবশিষ্ট থাকবে না। আর একজন লিখেছেন, 'পাকিস্তানে তো আর ১০-১২ হিন্দু বেঁচে রয়েছে, সরাসরি তাঁদের মেসেজ করতে পারতেন।' আর একজন লিখেছেন, 'আপনি বেশ সুন্দর লিখেছেন। তবে এই সব শুধু কথার কথা। কথা ও কাজের ভিত্তিতে মানুষের চরিত্র বিবেচনা করা হয়, আপনার ক্ষেত্রে কথা ও কাজের মধ্যে দূরত্ব পৃথিবী ও সূর্যের দুরত্বের সমান।'
এক ইউজার লিখেছেন, 'দীপাবলি হল অন্ধকার সরিয়ে আলোর আগমনের উৎসব। কিন্তু আপনার শাসনে হিন্দুদের সমস্ত আলো নিভে গিয়েছে। জোর করে ধর্ম পরিবর্তন, মন্দিরের অপমান, হিন্দু মেয়েদের অপহরণ ভয়ংকর হয়ে উঠেছে। এই পদ আপনাকে ছেড়ে যাওয়ার আগে আপনি সংখ্যালঘুদের জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ নিন।'
