দীপাঞ্জনা দাশগুপ্ত দে, ইস্ট ক্রয়ডন: আমার বাড়ি বেহালায়। শ্বশুরবাড়ি টালায়। আমি সাসেক্স এসেছি ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে। পরপর ২ বছর দুর্গাপুজো কাটিয়েছি প্রবাসে। এবার তৃতীয় বছর। ২০২৩ সালে একেবারে নতুন আসি। তাই পুজোয় সেভাবে অংশ নিতে পারিনি। ২০২৪ সালের পুজো ছিল একেবারে অন্যরকম। তিনদিন ইস্ট ক্রয়ডনের পুজো দেখতে গিয়েছিলাম। আমি যেহেতু সাসেক্সে থাকি, তাই সবচেয়ে কাছের পুজো এটি। বলে রাখা ভালো, লন্ডনে অনেক পুজো হয়। তবে সাসেক্সের কাছেপিঠে পুজো হয় তুলনামূলক অনেকটা কম।
এখানে পাঁজিপুঁথি দেখে তিথি অনুযায়ী পুজো হয় না। পুজো হয় সপ্তাহান্তে। এখানে আলাদা করে পুজোর ছুটি পাওয়া যায় না। বিশেষত ছোটরা স্কুলে চাইলেই অনুপস্থিত হতে পারে না। অকারণে অনুপস্থিত হলে বাবা-মাকে জরিমানা দিতে হয়। এক-আধটা পুজো তিথি মেনে পুজো হয়। তবে সেখানে মূলত সন্ধ্যার পর পুজো হয়। কাজের শেষে পরিবারের লোকজন নিয়ে সেই পুজোয় অংশ নেন সকলে। ভোগও হয়।
ইস্ট ক্রয়ডনের পুজো সপ্তাহান্তে হয়। শুক্রবার বিকাল থেকে শুরু হয়। রবিবার ভাসান। কোনও মণ্ডপ তৈরি হয় না। পুজো হয় লাইব্রেরিতে। ধোঁয়া যাতে বেশি না হয় তাই ধুনুচি নাচ ভিতরে হয় না। হোমের আগুনও বেশিক্ষণ জ্বালানো যায় না। বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশন অফ ইউকে পুজো পরিক্রমা করায়। মাথাপিছু ৩০-৩৫ পাউন্ড লাগে। লন্ডনের পুজো ঘুরিয়ে দেখায়। পুজো পরিক্রমায় অংশ নিলে অনেক পুজো দেখা যায়।
তবে এখানে পুজো একেবারেই অন্যরকম। কলকাতার ধারেকাছেও নয়। পুজো পুজো গন্ধ টের পাওয়া যায় না। এই পুজোয় অংশ নেওয়াকে দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোও বলা যায় না। বাঙালি বলে শুধু একটু পুজো করা হয়। সিঁদুর খেলাও হয়। তবে কলকাতার মতো না। সুতরাং কলকাতার পুজো মিস করি। আবার ভালোও লাগে। যে দূরে থেকেও বাঙালি ঐতিহ্যকে ধরে রাখার চেষ্টা তো করা হচ্ছে।
