সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: রবিবার ভোর রাতে ইরানের তিনটি পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে আমেরিকা। তারপর থেকেই সেখানে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ ছড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সেই প্রসঙ্গে এবার মুখ খুলল ইরান। তারা সাফ জানিয়েছে, তাঁদের পরমাণু ঘাঁটিতে আমেরিকা হামলা চালালেও কোনও তেজস্ক্রিয় বিকিরণের খবর এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। নাগরিকরা সুরক্ষিত রয়েছেন।
আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থাও একই কথা বলেছে। এক্স হ্যান্ডেলে একটি বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, ‘রবিবার ভোরে ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলিতে আমেরিকা যে হামলা চালিয়েছে, তাতে এখনও পর্যন্ত সেখানে কোনও তেজস্ক্রিয় বিকিরণের খবর পাওয়া য়ায়নি। গোটা পরিস্থিতির উপর আমরা নজর রাখছি।’
কিন্তু পরমাণুঘাঁটিতে হামলার পরও কেন তেজস্ক্রিয় বিকিরণ ছড়াল না? বিশেষজ্ঞদের মতে, এর নেপথ্যে সম্ভাব্য দুটি কারণ থাকতে পারে। প্রথমত, আমেরিকা যে হামলা চালিয়েছে তা যথাযথ ছিল না। দ্বিতীয়ত, ওই পরমাণবিক কেন্দ্রগুলিতে আদও কোনও ইউরেনিয়াম ছিল না।
ইজরায়েল-ইরান যুদ্ধে সরাসরি জড়িয়ে পড়েছে আমেরিকা। রবিবার ভোর রাতে মার্কিন সেনাবাহিনী ইরানের ফোরদো, নাতানজ ও ইসফাহানে অবস্থিত তিনটি পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা চালায়। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমাজমাধ্যমে বলেন, “আমেরিকা ইরানের তিনটি পরমাণু গবেষণা কেন্দ্রে সফলভাবে হামলা চালিয়েছে। আমেরিকার সব বিমান এখন ইরানের আকাশসীমার বাইরে।” মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, ইরানের ওই তিন পরমাণু গবেষণাকেন্দ্রগুলি পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে মার্কিন সেনা। অন্য কোনও দেশের সেনাবাহিনী এখনও পর্যন্ত এই ধরনের অভিযান চালাতে পারেনি। আর কোনও সেনার পক্ষে এটা সম্ভবও হত না।” একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হুঁশিয়ারির সুরে জানিয়েছেন, “এবার শান্তির সময়।”
আমেরিকার ভূমিকার তীব্র নিন্দা করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পাজেস্কিয়ান। তাঁর কথায়, “ইহুদি রাষ্ট্র ও তাঁর বন্ধুদের ক্রমাগত হামলার জবাব দেওয়া হবে। সেই প্রত্যুত্তর হবে ভয়ংকর।” দেশের মাটিতে আমেরিকার হামলাকে অপরাধমূলক আচরণ তকমা দিয়েছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন, “আজ সকালে আমেরিকার আচরণ অত্যন্ত আপত্তিকর। এর সুদূরপ্রসারী প্রতিক্রিয়া হবে। রাষ্ট্রসংঘের প্রতিটি সদস্যর এই ঘটনায় সতর্ক হওয়া উচিত। এটা অত্যন্ত বিপজ্জনক, বেআইনি এবং অপরাধমূলক আচরণ।”
