ফের যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্যে। সম্প্রতি ৩টি তেলের ট্যাঙ্কারে মার্কিন হামলায় ১১ জনের মৃত্যু ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর এবার পালটা হুমকি এল ইরানের তরফে। কড়া সুরে ইরানের তরফে জানানো হয়েছে, এর কড়া জবাব দেওয়া হবে আমেরিকাকে। শুধু তাই নয়, ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের ঘালিবাফ বলেন, ''যুদ্ধের নিয়ম এখন বদলে গিয়েছে।"
শনিবার মধ্যপ্রাচ্যে পরপর ইরানের ৩টি তেলবাহী ট্যাঙ্কার গুঁড়িয়ে দিয়েছে মার্কিন সেনা। সেন্টকম তাদের এক্স হ্যান্ডলে লিখেছে, ‘তেহরানের ব্যর্থ হামলার পর, খার্গ দ্বীপের উপকূলে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি)-এর তেলবাহী ট্যাঙ্কার ‘এম/টি ডাউনি’ এবং জাস্কের কাছে ‘এম/টি স্টার্ক ১’-কে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ওমান উপসাগরে তাদের আরও একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার ‘এম/টি কাইলো’ – যা ‘নক্সেন’ নামেও পরিচিত, সেটিকেও গুঁড়িয়ে দিয়েছে মার্কিন বাহিনী। তবে অভিযানের আগে জাহাজের নাবিক ও নৌকর্মীদের জাহাজটি পরিত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।’ সেন্টকম-এর কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার হুমকি দিয়ে বলেন, “আইআরজিসি-র কাছে বার্তাটি স্পষ্ট হওয়া উচিত: আপনারা যদি আমাদের দু’টি জাহাজে গুলি চালান, তাহলে আপনাদের আরও বড় মূল্য চোকাতে হবে। আমরা আপনাদের তিনটি জাহাজ ধ্বংস করব। আমাদের বাহিনীদের রক্ষায় বিন্দুমাত্র দ্বিধা করব না।”
ঘালিবাফ বলেন, "এখন থেকে ইরানের স্বার্থ ও নিরাপত্তার উপর কোনও রকম আক্রমণ হলে আরও দ্রুত এবং ব্যাপক জবাব দেওয়া হবে। শত্রুর জন্য ভয়ংকর যন্ত্রণাদায়ক হবে আমাদের হামলা।
আমেরিকার এই হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় ইরানের। হামলার জেরে ৩ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি বড়সড় আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রবিবার আমেরিকাকে পালটা হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফ বলেন, "এখন থেকে ইরানের স্বার্থ ও নিরাপত্তার উপর কোনও রকম আক্রমণ হলে আরও দ্রুত এবং ব্যাপক জবাব দেওয়া হবে। শত্রুর জন্য ভয়ংকর যন্ত্রণাদায়ক হবে আমাদের হামলা। ওয়াশিংটনের বোঝা উচিত যুদ্ধের নিয়ম সব বদলে গিয়েছে।"
এদিকে শুক্রবার তাদের বোটে ইরানের বিরুদ্ধে হামলার যে অভিযোগ আমেরিকা করেছিল তারও জবাব দিয়েছে তেহরান। জানানো হয়েছে, হরমুজের নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করছিল ওই মার্কিন বোট। যার জেরেই তাতে হামলা চালানো হয়। পাশাপাশি বেআইনি পথ ধরে যাওয়া তিনটি ট্যাঙ্কারের উপরেও হামলা চালিয়েছে তারা। তবে নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশের বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি আমেরিকা। বরং পালটা হামলায় নতুন করে যুদ্ধের দামামা বাজল মধ্যপ্রাচ্যে।
