সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: রুশ তেল কেনা নিয়ে মার্কিন সমালোচনাকে ধুয়ে দিলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর। সম্প্রতি রাশিয়া সফরে গিয়েছেন তিনি। দেখা করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে। তারপরেই জয়শংকর সাফ জানিয়ে দেন, মার্কিন মিডিয়া যুক্তিহীন বক্তব্য় রাখছে। রাশিয়া থেকে তেল এবং গ্যাস কিনছে গোটা বিশ্ব। রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যও হঠাৎ করে বেড়ে যায়নি।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জয়শংকর বলেন, "রুশ তেলের বৃহত্তম ক্রেতা চিন। রুশ গ্যাসের বৃহত্তম ক্রেতা ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ২০২২ সালের পর থেকে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য লাফিয়ে বেড়েছে এমনটাও নয়। ঘটনাচক্রে আমরা আমেরিকা থেকেও তেল কিনি, সেই পরিমাণটাও বেড়েছে। তাই মার্কিন মিডিয়া যে যুক্তি দিচ্ছে সেটা খুবই অগোছালো, ভুলভাল।" অর্থাৎ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে রুশ তেল কেনার 'অপরাধে' ভারতের উপর অতিরিক্ত শুল্ক চাপিয়েছেন, সেই পদক্ষেপকেই যুক্তিহীন বলে অভিহিত করলেন জয়শংকর।
সম্প্রতি ট্রাম্প ভারতের উপরে ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছিলেন। তারপর রুশ তেল আমদানির ‘অপরাধে’ আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপে ভারতের উপর। এহেন পরিস্থিতিতে বুধবার জানা যায়, সেপ্টেম্বর এবং অক্টোবর মাসের জন্য রাশিয়াকে বিপুল পরিমাণ তেলের বরাত দেওয়া হয়েছে। তার কারণ সম্প্রতি ব্যারেলপ্রতি তিন ডলার ছাড় দেওয়া হয়েছে উরালের তেলে। হিসাব অনুযায়ী, এই ছাড়ের অঙ্কটা ৫ শতাংশ। তবে এই নিয়ে সরকারিভাবে কোনও পক্ষই কিছু জানায়নি। তবে এটা পরিষ্কার, রাশিয়ার থেকে তেল কেনা বাড়িয়ে আমেরিকাকেই পালটা বার্তা দিয়েছে দিল্লি।
এহেন পরিস্থিতিতে মস্কো সফরে গিয়েছেন জয়শংকর। শুল্ক যুদ্ধের আবহে দীর্ঘদিনের ‘বাণিজ্যবন্ধু’ রাশিয়াকে আরও কাছে টানছে ভারত। মস্কোর প্রতি বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকরের বার্তা, আরও মজবুত বাণিজ্য সম্পর্ক গড়তে হবে আমাদের। রুশ সংস্থাগুলিকে ভারতীয় অংশীদারদের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। সেই সঙ্গেই তাঁকে বলতে শোনা যায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বের সবচেয়ে স্থিতিশীল সম্পর্ক ভারত ও রাশিয়ার। অর্থাৎ ট্রাম্পকে হুমকিকে 'ডোন্ট কেয়ার' করেই আপাতত এগোচ্ছে ভারতের বিদেশনীতি।
