সালটা ২০১১। পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে প্রবেশ করে তারাই ‘জেহাদের বিষ’ লাদেনকে খতম করেছিল। দেড় দশক পর মার্কিন সেনার সেই ‘নেভি সিল’ বাহিনীর ইউনিট-৬ই (SEAL Team 6) এবার ইরানের ‘মৃত্যুকূপ’ থেকে উদ্ধার করল আহত পাইলটকে।
শুক্রবার আমেরিকার দু’টি যুদ্ধবিমান এফ-১৫ই এবং এ-১০ গুঁড়িয়ে দেয় ইরান। সেই ঘটনায় নিখোঁজ হন এক পাইলট। ‘শত্রু’ দেশে আহত অবস্থায় দু’দিন তিনি গা ঢাকা দিয়েছিলেন। তাঁর খোঁজে চিরুনি তল্লাশি চালিয়েছিল ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস। কিন্তু তা-ও তাঁর হদিশ পায়নি তারা। জানা যায়, ইরানের একটি পার্বত্য অঞ্চলে লুকিয়ে ছিলেন ওই পাইলট। তবে সূত্রের খবর, তাঁর অবস্থান সম্পর্কে অবগত ছিল আমেরিকা। জিপিএসের মাধ্যমে ট্র্যাক করা হচ্ছিল তাঁকে। এরপর নিখুঁত পরিকল্পনা এবং রুদ্ধশ্বাস অভিযান চালিয়ে মার্কিন পাইলটকে উদ্ধার করে ‘নেভি সিল’ বাহিনী। ইরানের ভূখণ্ডের ২০০ মাইল গভীরে প্রবেশ করে দুর্গম জাগ্রোস পর্বতমালা থেকে আহত ওই পাইলটকে উদ্ধার করে তারা।
‘নেভি সিল’ হল মার্কিন নৌসেনার সবচেয়ে শক্তিশালী বাহিনীগুলির মধ্যে অন্যতম। তাঁদের কাজই হল কঠিন পরিস্থিতিতে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং গোপন সামরিক অভিযান পরিচালনা করা। এই বিশেষ বাহিনী সমুদ্র, আকাশ এবং স্থল - তিন জায়গাতেই সমান দক্ষতার সঙ্গে অভিযান চালাতে পারে। এই বাহিনীর প্রধান কাজগুলির মধ্যে হল - শত্রু দেশের ভিতরে প্রবেশ করে গোপন অভিযান চালানো, সন্ত্রাস-বিরোধী অভিযান পরিচালনা করা, নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা, পণবন্দিদের উদ্ধার করা ইত্যাদি। ২০১১ সালে ‘নেভি সিল’-এর ইউনিট-৬ই অ্যাবোটাবাদে সফল অভিযান চালিয়ে লাদেনকে হত্যা করেছিল।
