ইরানে ফের গোপন অভিযান আমেরিকা ও ইজরায়েলের (US-Israel Attack On Iran)। মারণ হামলায় এবার মৃত্যু হল ইরানের গোয়েন্দা প্রধান মাজিদ খাদেমির। শত্রুর হামলায় গোয়েন্দা প্রধানের মৃত্যুর কথা সোমবার স্বীকার করে নিয়েছে ইসলামিক রেভলিউসনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি। একমাসেরও বেশি সময় ধরে চলমান যুদ্ধে ইরানের আরও এক শীর্ষ আধিকারিকের মৃত্যু ইজরায়েল ও আমেরিকার জন্য বড় সাফল্য বলে মনে করা হচ্ছে।
আইআরজিসির উদ্ধৃতি তুলে ধরে সোমবার ইরানের সংবাদমাধ্যমের তরফে জানানো হয়েছে, এদিন সকালে ইরানের রাজধানী তেহরানে এয়ার স্ট্রাইক চালায় আমেরিকা ও ইজরায়েল। তেহরানের একাধিক এলাকাকে নিশানায় নিয়ে মুহুর্মুহু বোমাবর্ষণ করা হয়। এই হামলাতেই মৃত্যু হয়েছে আইআরজিসি-র গোয়েন্দা প্রধান মাজিদ খাদেমি। ইরানের তরফে তাঁর মৃত্যুর কথা স্বীকার করা হলেও আমেরিকা বা ইজরায়েল কোনও পক্ষই এই ইস্যুতে কোনও মন্তব্য করেনি। উল্লেখ্য, ইজরায়েলের হামলায় গত বছরের জুন মাসে মৃত্যু হয়েছিল আইআরজিসির গোয়েন্দা প্রধান মহম্মদ কাজেমির। তাঁর মৃত্যুর পর এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল মাজিদ খাদেমিকে। তবে এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই গোপন অভিযানে মৃত্যু হল তাঁর।
এদিন সকালে ইরানের রাজধানী তেহরানে এয়ার স্ট্রাইক চালায় আমেরিকা ও ইজরায়েল। তেহরানের একাধিক এলাকাকে নিশানায় নিয়ে মুহুর্মুহু বোমাবর্ষণ করা হয়। এই হামলাতেই মৃত্যু হয়েছে আইআরজিসি-র গোয়েন্দা প্রধান মাজিদ খাদেমি।
এদিকে সময় যত গড়াচ্ছে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি ততই ভয়াবহ আকার নিতে শুরু করেছে। ইরানে মরণকামড় দেওয়ার দিনক্ষণ বেঁধে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তারপরেই নাকি সংঘর্ষবিরতির পথে হাঁটছে দুই পক্ষ! সূত্রের খবর, আপাতত ৪৫ দিনের জন্য় সংঘর্ষবিরতি নিয়ে আলোচনা চলছে মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে। যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। তবে পাকিস্তান, তুরস্ক এবং মিশরের মাধ্যমে এখনও দর কষাকষি চলছে। আলোচনা হচ্ছে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে।
প্রসঙ্গত, ট্রাম্প আগেও হুমকি দিয়েছিলেন, সোমবারের মধ্যে হরমুজ খুলে না দিলে ইরানে ‘ভয়াবহ পরিস্থিতি’ ডেকে আনবেন। এর পরেও অবশ্য কাজ হয়নি। উলটে হরমুজ প্রণালী নিয়ে নিজের অবস্থানে অনড় থেকেছে তেহরান। হরমুজ না খুললে ইরানকে নরক বানিয়ে ছাড়বেন, ডেডলাইন বেঁধে দিয়ে এবার হুঙ্কার দিয়েছেন ট্রাম্প। সেকারণেই যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে জোর দিচ্ছে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলি। কিন্তু ইরান কি আমেরিকার হুঙ্কারের পর যুদ্ধ থামাতে রাজি হবে? নাকি মার্কিন হামলার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করবে? সেটাই এখন দেখার।
