সুকুমার সরকার, ঢাকা: ‘কুসন্তান যদিও হয়, কুমাতা কদাপি নয়।’ যথার্থ এই প্রবাদ। ন’মাস গর্ভে লালন করে রাতের পর রাত না ঘুমিয়ে সন্তানকে বুকে আগলে রাখে মা। আর প্রতিদানে জোটে বৃদ্ধাশ্রম নতুবা ছেলে-বৌমার থেকে গলগ্রহের তকমা। আধুনিকতার ছোঁয়াচে যেন আজ হারিয়ে গিয়েছে মানবিক মূল্যবোধ। এবার এমনই এক অমানবিক ঘটনার সাক্ষী হয়ে রইল বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলা। শিকলে বাঁধা ৭০ বছরের বৃদ্ধা জানু পারভিনের কাছে আজ সমস্ত রং মুছে গিয়ে জীবন শুধুই সাদা-কালো। সন্তানের হাতে নির্যাতিত হয়ে চোখের জলে দিন গুনছেন তিনি।
[মুখে পোড়া দাগ, নববধূকে বিবস্ত্র করে বেধড়ক মারধর শ্বশুরবাড়িতে]
বেশ কিছুদিন ধরেই ওই বৃদ্ধাকে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখেছেন তাঁর ছেলে ও বউমা। কারণ জানতে চাইলে তাঁদের বক্তব্য, ‘প্রলাপ বকে মা ঘুম ভাঙিয়ে দেয়।’ শুধু তাই নয় তাঁদের দাবি, “মা নাকি মাঝে মাঝে পাগলামি করে। এটা-ওটা নষ্ট করে। তাই তাঁকে বেঁধে রাখা হয়।” তবে গতিক বুঝে সঙ্গে-সঙ্গে সাফাইও দিয়েছেন দম্পতি। সবসময় নাকি তাঁরা মাকে বেঁধে রাখে না। মাঝে মাঝে তাঁকে খুলে দেওয়া হয়। অন্যদিকে প্রতিবেশীরা জানিয়েছে, জানু পারভিন ভোরে ছেলে-মেয়েদের ঘুম থেকে ডেকে তোলেন। দরজায় টোকা দিয়ে তাঁদের নমাজ পড়তে যেতে বলেন। এই কাজের জন্যই তাঁর কপালে জুটেছে এমন শাস্তি। তবে নিজের কৃতকর্মে বিন্দুমাত্র অনুতপ্ত নয় বৃদ্ধার ছেলে ও বউমা। তাঁদের দাবি, মা দরজায় এসে যখন তখন আঘাত করে।
[জানেন, কেন এই অফিসের কর্মীরা মাথায় হেলমেট পরে কাজ করেন?]
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর অনেকেই প্রতিবাদ শুরু করেন। মামলাটি নজরে আনা হয় সাতক্ষীরা সদরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুর হোসেনের। তিনি জানিয়েছেন, “আমার কাছে এ খবর এসেছে।আমি ব্যবস্থা নিচ্ছি। এমন অমানবিক আচরণ কোনও সন্তান তার মায়ের প্রতি করতে পারে না।” তবে এই টানাপোড়েনে মাঝে শিশুর মতো ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন জানু পারভিন। নিজের সন্তানের থেকে এই আচরণ পেয়ে যেন আজ প্রতিবাদের স্বরটুকুও হারিয়ে ফেলেছেন তিনি।
The post চোখের জলে দিন গুনছেন শিকলে বাঁধা এই মা appeared first on Sangbad Pratidin.
