সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: তিন মাস ধরে চলছে সরকার বিরোধী আন্দোলন। ৭০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন ১৩০০ জন। সেই ভেনেজুয়েলায় অর্ধেকের বেশি সংবাদপত্রের প্রকাশনা বন্ধ। বন্ধ বেশিরভাগ টেলিভিশন চ্যানেল। দেশের খবর তাহলে মিলবে কি করে? মানুষের কাছে কিভাবে খবর পৌঁছনো যাবে? এই ভাবনা থেকেই নতুন উদ্যোগ নিয়েছেন সেদেশের গুটি কয়েক সাংবাদিক ও সমাজকর্মী। বেশ অভিনব সেই পদ্ধতি।
বাসে বাসে উঠে খবর পড়ে শোনাচ্ছেন তারা। সঙ্গে টেলিভিশনের আকারে চার কোণা ফ্রেম। ছবিটা ঠিক এরকম।
দেশের বৈদ্যুতিন সংবাদমাধ্যমগুলি এখন অনেক বেশি সতর্ক। গৃহযুদ্ধের খবর যাতে না ছড়ায় তার জন্য সতর্ক সংবাদ পরিবেশনের সৌজন্যে, কোথাও চাপা পড়ে যাচ্ছে সত্যিটা। বেশির ভাগ নাগরিকের কাছে পৌঁছচ্ছে সীমিত ইন্টারনেট পরিষেবা। কোথাও কোথাও সেটাও বন্ধ। ফলে খবর পাঠানোর, খবর জানানোর উপায় আর নেই এই রাস্তা ছাড়া। ঊনত্রিশ বছরের সমাজকর্মী ক্লদিয়া লিজার্ডো প্রথম এই উদ্যোগ নেন।
বৈদ্যুতিন সংবাদমাধ্যমে খবর পরিবেশনের ভঙ্গিতে বাসে বাসে উঠে সংবাদ পাঠ করতে শুরু করেন এই মহিলা। সঙ্গী আরও কয়েকজন সাংবাদিক। সতর্ক হয়ে সংবাদ পাঠ নয়, সাহসী সাংবাদিকতার পথেই হাঁটছেন তারা। কোনও সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় গিয়ে নয়, নিজেদের মতো করে তারা খবর পড়ে শোনাচ্ছেন। বুলেটিন আাকারে বাসে বাসে খবর পড়া চলছে। সপ্তাহে দুবার চলছে বাসে তৈরি করা এইরকম লাইভ টিভির সম্প্রচার।
[চলন্ত ট্রেনে মহিলা যাত্রীকে ধর্ষণ, গ্রেপ্তার প্যান্ট্রি কারের কর্মী]
কিছু শর্ত আছে লাইভ বুলেটিনের। যারা এই খবর পরিবেশনের কাজে যুক্ত, তারা কোনওভাবেই রাজনৈতিক স্লোগান লেখা জামাকাপড় পরতে পারবেন না। শ্রোতাদের দিক থেকে ভেসে আসা মন্তব্যের জবাব দেওয়া যাবে না। সরকার বিরোধী আন্দোলনের কোনও পক্ষ নিয়ে কথা বলা যাবে না। ‘বাস টিভি’ নামে পরিচিত এই দলের উদ্যোগে বেশ সাড়া পড়েছে। উৎসাহ নিয়ে মানুষ শুনছেন তাদের কথা। যে ভেনেজুয়েলায় ২০০৫ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে শতাধিক গণমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, সেখানে এই পদ্ধতি বেশ পছন্দ করছেন মানুষ।
The post জানেন, কেন বাসে বাসে খবর পড়ে শোনাচ্ছেন এঁরা! appeared first on Sangbad Pratidin.
