মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ে মুখ পুড়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। সেদেশের সর্বোচ্চ আদালত পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, নয়া শুল্ক লাগু করার কোনও ক্ষমতা নেই ট্রাম্পের। যা করেছেন, তা সম্পূর্ণ বেআইনি। এই পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে এর ফলে লাভবান হবে ভারত। এবার তাহলে কত শতাংশ শুল্ক দিতে হবে নয়াদিল্লিকে?
ভারতের সঙ্গে বহুদিন ধরেই 'শুল্কযুদ্ধ' চালাচ্ছেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়ে দেন, রুশ তেল কেনায় 'শাস্তিস্বরূপ' ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানো হচ্ছে ভারতের উপরে। এমাসের শুরুতেই দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি হওয়ার পর তা কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হয়। ট্রাম্প দাবি করেন, নয়াদিল্লি সম্মত হয়েছে রুশ তেল আর না কেনার ব্যাপারে।
কিন্তু নয়া রায়ের পরে পরিস্থিতি আবার বদলেছে। বিশ্বের সমস্ত দেশের মতোই ভারতকেও ১৮ নয় ১০ শতাংশ শুল্ক দিলেই চলবে। কিন্তু ট্রাম্প আবার জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি এবার অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক চাপাবেন। ফলে আপাতত ভারতকে সেই অতিরিক্ত শুল্ক দিতে হবে। কিন্তু সংবিধানের ১২২ ধারা অনুসারে ট্রাম্প অতিরিক্ত শুল্ক চাপালেও তা ১৫০ দিনের বেশি চাপানো যাবে না। ফলে সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেলেই আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক আর কার্যকর থাকবে না। তবে এরপরও ট্রাম্প চাইলে নতুন করে অতিরিক্ত শুল্ক চাপাতে পারেন।
প্রসঙ্গত, এদিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর হোয়াইট হাউসে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বলবৎ থাকবে। তাঁকে বলতে শোনা যায়, "আমি মনে করি ভারতের সাথে আমার সম্পর্ক দুর্দান্ত।" সুপ্রিম কোর্টের রায় ভারতের সাথে বাণিজ্য চুক্তিতে প্রভাব ফেলবে কিনা জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, "কিছুই পরিবর্তন হয়নি। ওরা শুল্ক দেবে, আমরা দেব না।"
শুক্রবার মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের নেতৃত্বাধীন ন’জন বিচারপতির বেঞ্চ ট্রাম্পের শুল্কনীতির পর্যালোচনা করে। ভোটাভুটি হলে ফল দাঁড়ায় ৬-৩। অর্থাৎ শুল্কনীতির বিরুদ্ধেই বেশি ভোট পড়েছে। এরপরই প্রধান বিচারপতি জানান, ‘‘জরুরি অবস্থার দোহাই দিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া একক সিদ্ধান্তে আমদানির উপর বিশাল অঙ্কের শুল্ক আরোপ করার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নেই। তিনি যা করেছেন, তা নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন।’’
