সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: টানা তিন ঘণ্টার বৈঠকেও মেলেনি সমাধান সূত্র। কাটেনি যুদ্ধের জট। তবে এক 'সুপার পাওয়ারে'র সামনে আরেক 'মেগা পাওয়ারে'র শক্তি প্রদর্শনের সাক্ষী থাকল বিশ্ব। আলাস্কার জয়েন্ট বেস এলমেনডর্ফ-রিচার্ডসনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে বোমারু বিমানে স্বাগত জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দুই নেতার সাক্ষাতের সময়ে আকাশে উড়ল বি-২ স্টেলথ বম্বার। সঙ্গে ছিল চারটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানও।
জানা গিয়েছে, বৈঠকের আগে দু'টি বি-২ বম্বার আনা হয়। আলাস্কার কাছেই আইলসন ঘাঁটি থেকে আসে এফ-৩৫। এলমেনডর্ফ ঘাঁটিতে দাঁড়ানো এফ-২২ র্যাপ্টর যুদ্ধবিমান সারি দিয়ে লাল গালিচার পাশে সাজানো ছিল। নেতারা সেই পথেই হেঁটে যান। যদিও ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে এই শক্তি প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন কি না, সেই বিষয়ে পেন্টাগন কোনও মন্তব্য করেনি।ট্রাম্প বারবার বি-২ বোমারু বিমানের প্রশংসা করেছেন। তিনি একে "অসাধারণ যন্ত্র" বলেছেন। সম্প্রতি তিনি ঘোষণা করেছেন এই বিমানের নতুন ও উন্নত মডেলের আনা হবে।
এক দশক পর প্রথমবার আমেরিকার মাটিতে পা রাখলেন পুতিন। সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্কে যে শৈত্য চলছে, সেই তুলনায় উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয় পুতিনকে। লাল গালিচায় হেঁটে আসেন তিনি। হাততালি দিলেন ট্রাম্প। দুই নেতা একসঙ্গে আকাশের দিকে তাকালেন, ঠিক তখনই মাথার উপর দিয়ে গর্জন করে উড়ে গেল বি-২।
এরপরেই 'শান্তির সন্ধানে' লেখা ব্যানারের সামনে শুরু হয় বহু প্রতীক্ষিত বৈঠক। শীর্ষ বৈঠক আয়োজনে আড়ম্বর থাকলেও ইউক্রেন ইস্যুতে আলোচনা ফলপ্রসু হয়নি। পুতিনকে প্রশ্ন করা হয়, "আপনি কি সাধারণ মানুষ হত্যা বন্ধ করবেন?" বাঁকা হাসিতে সেই প্রসঙ্গে এড়িয়ে যান পুতিন। ইঙ্গিতে জানান, তিনি শুনতে পাচ্ছেন না। তাঁকে 'উদ্ধারে' এগিয়ে আসেন ট্রাম্প। দুই নেতা এগিয়ে যান গাড়ির দিকে।
বৈঠক শেষে পুতিন সাংবাদিকদের বলেন, ইউক্রেনে শান্তি আনতে হলে রাশিয়ার উদ্বেগের কারণ মেটাতে হবে। তার ইঙ্গিত ছিল জেলেনস্কির সরকারের অপসারণের দিকে। পুতিন আহ্বান জানিয়েছেন পরের বৈঠক মস্কোতে হতে পারে। উত্তরে ট্রাম্প বলেন, "এটা মজার প্রস্তাব। আমি মনে করি এটা সম্ভব।"
