সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: আহমেদাবাদের বিমান দুর্ঘটনার পিছনে তুরস্কের 'হাত' রয়েছে কিনা, সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন যোগগুরু বাবা রামদেব। তাঁর যুক্তি ছিল, যেহেতু তুর্কির একাধিক সংস্থা বিমান রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করে, তাই দুর্ঘটনার পিছনে এই বিষয়টিও মাথায় রাখা উচিত। রামদেবের এই অভিযোগ অস্বীকার করল তুরস্ক। জানিয়ে দিল, দুর্ঘটনার কবলে পড়া বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনারের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কোনও তুরস্কের সংস্থার হাতে ছিল, এই দাবি ভুয়ো।
তুরস্কের যোগাযোগ বিভাগের বিভ্রান্তি প্রতিরোধ কেন্দ্রের তরফে এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্ট করা হয়েছে। সেখানে তারা জানিয়েছে, 'দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব তুরস্কের সংস্থার হাতে ছিল বলে যে দাবি করা হচ্ছে তা, তুরস্ক-ভারত সম্পর্ক নিয়ে জনমতকে বিভ্রান্ত করার লক্ষ্যে ছড়ানো ভুয়ো তথ্য।'
প্রসঙ্গত, শনিবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রামদেব বলেন, ‘‘আমি জেনেছি তুর্কির একাধিক সংস্থা রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করে। সেই সুবাদে ভারতের সঙ্গে শত্রুতার জায়গা থেকে ওদের তরফে ষড়যন্ত্রের তত্ত্বও এড়িয়ে দেওয়া যায় না। ফলে বিমান দুর্ঘটনার পিছনে এই বিষয়টিও মাথায় রাখা উচিত। অসামরিক বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রে ভারতের উচিত আরও বেশি নজরদারি চালানো। রক্ষণাবেক্ষণের নামে ষড়যন্ত্রের বিষয়টিও এড়িয়ে যাওয়া যায় না।’’ রামদেব আরও বলেন, ভারতের গুরুত্বপূর্ণ সংবেদনশীল ক্ষেত্রে বিদেশিদের হস্তক্ষেপ শূন্যে নামিয়ে আনা উচিত সরকারের।
উল্লেখ্য, পহেলগাঁওয়ে পাক মদতে জঙ্গি হামলা ও ২৬ জনের মৃত্যুর ঘটনায় অপারেশন সিঁদুর শুরু করে ভারত। গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে জঙ্গিদের আঁতুড়ঘর। সেই ঘটনার পর ভারতের মাটিতে পালটা হামলা চালাতে শুরু করে পাকিস্তান। সেখানে পাকিস্তানের সহায় হয় তুরস্ক। বিষয়টি নজরে আসার পর নিরাপত্তার স্বার্থে একাধিক পদক্ষেপ করে ভারত। দেশের বিমানবন্দরে রক্ষণাবেক্ষণের কাজে যুক্ত থাকা তুর্কির সংস্থাগুলিকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এইসবের মাঝেই মর্মান্তিক আহমেদাবাদে বিমান দুর্ঘটনা তুর্কিযোগ থাকার গুঞ্জন শুরু হতেই তা অস্বীকার করল তুরস্ক।
