মেয়াদ শেষের আগেই ইস্তফা দিতে পারেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম 'দ্য অবজারভার’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামিকাল অর্থাৎ সোমবারই নিজের ইস্তফাপত্র জমা দিতে পারেন তিনি। জানা যাচ্ছে, স্টারমারের কাজে অসন্তুষ্ট দলের শতাধিক সাংসদ। যার জেরেই দায়িত্ব থেকে সরতে পারেন তিনি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে, মন্ত্রিসভার সদস্য, উপদেষ্টা এবং ট্রেড ইউনিয়ন নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর স্টারমার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে তাঁর পক্ষে আর পদে থাকা সম্ভব নয়। তবে রয়টর্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, সরকারি সূত্র এই দাবি নাকচ করে দিয়ে বলেছে স্টারমার এখনও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে থাকছেন, যে দাবি করা হচ্ছে তা ভিত্তিহীন। তবে রয়টর্সের রিপোর্টে এটাও জানানো হয়েছে, স্টারমারের লেবার পার্টির শতাধিক সাংসদ প্রকাশ্যে বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত। ক্ষুব্ধ এই এমপিরা হাউস অফ কমন্সে দলের মোট আসনের প্রায় এক-চতুর্থাংশের প্রতিনিধিত্ব করেন। ফলে ক্ষোভ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠায় স্টারমারের বিদায় এখন সময়ের অপেক্ষা। তিনি পদত্যাগ করলে ব্রিটেনের ১০ বছরের ইতিহাসে স্টারমার হবেন ষষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী যিনি মেয়াদ পূরণের আগে পদত্যাগ করবেন। এর আগে ডেভিড ক্যামেরন, থেরেসা মে, বরিস জনসন, লিজ ট্রাস এবং ঋষি সুনক মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই প্রধানমন্ত্রী পদ ছেড়েছেন।
২০২৪ সালে ব্রিটেনে লেবার পার্টির বিরাট জয়ের নেপথ্য কারিগর ছিলেন স্টারমার। তবে তিনি প্রধানমন্ত্রী পদে বসার পর থেকে তাঁর জনপ্রিয়তা ক্রমশ হ্রাস পেতে শুরু করে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে ব্রিটেনে লেবার পার্টির বিরাট জয়ের নেপথ্য কারিগর ছিলেন স্টারমার। তবে তিনি প্রধানমন্ত্রী পদে বসার পর থেকে তাঁর জনপ্রিয়তা ক্রমশ হ্রাস পেতে শুরু করে। অসংখ্য বিতর্ক, নীতিবদল এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন তা পূরণে ব্যর্থ হন। এতে স্টারমারের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এদিকে গত শুক্রবার উপনির্বাচনে স্টারমারের প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম জয়ী হওয়ায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর উপর চাপ বাড়ে। বার্নহ্যামের ঘনিষ্ঠরাও স্টারমারের পদত্যাগের দাবিতে সরব হন। প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংও স্টারমারের নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানাতে শুরু করেছেন। গুরুতর এই পরিস্থিতিতে গত ১৯ জুন স্টারমার জানান, যে কোনও চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় তিনি প্রস্তুত। পাশাপাশি লেবার পার্টির নেতাদের অন্তর্দ্বন্দ্ব এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান।
কিন্তু কেন এত ঘন ঘন প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন হয় ব্রিটেনে? বিশেষজ্ঞদের মতে, এর নেপথ্যে রয়েছে ব্রিটেনের সংসদীয় ব্যবস্থা। দেশটিতে প্রধানমন্ত্রী জনগণের দ্বারা সরাসরি নির্বাচিত হন না। বরং দলের সাংসদদের সমর্থনে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করা হয়। যতদিন সাংসদরা সমর্থন করেন ততদিন কোনও ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী পদে বহাল থাকেন। যদি সাংসদরা মনে করেন কোনও নেতার জনপ্রিয়তা কমে যাওয়া পরবর্তী নির্বাচনে দলের ক্ষতি করতে পারে, তাহলে তাঁরা সাধারণ নির্বাচন ছাড়াই নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেন। দলীয় নিয়মে নেতাকে অপসারন করার কাজও অতি সহজ। কনজারভেটিভ পার্টিতে, যদি ১৫ শতাংশ এমপি কোনও নেতার বিরুদ্ধে চিঠি লেখেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা যেতে পারে। তবে লেবার পার্টির ক্ষেত্রে এই সংখ্যাটা ২০ শতাংশ। এখানে স্টারমারকে অপসারণের জন্য বিক্ষুব্ধ এমপি-র সংখ্যাটা ২০ শতাংশের অনেক বেশি বলেই জানা যাচ্ছে।
