সংঘর্ষবিরতি কার্যকর হলেও লেবাননে হামলা জারি রেখেছে ইজরায়েল। শনিবার ভোর পর্যন্ত দক্ষিণ লেবাননজুড়ে হামলা চালিয়ে গিয়েছে ইজরায়েলের সেনাবাহিনী। এই হামলায় অন্তত ১২ জনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। গুরুতর এই পরিস্থিতিতে এবার আমেরিকাকে কড়া বার্তা দিল ইরান। জানানো হয়েছে, ইজরায়েল যাতে লেবাননে হামলা না চালায় তা আমেরিকাকে নিশ্চিত করতে হবে।
লেবাননের সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, শনিবার রাতভর দক্ষিণ লেবাননের বহু জায়গায় হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল। এয়ার স্ট্রাইকের পাশাপাশি ব্যাপক ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। হামলার জেরে একাধিক আবাসিক ভবন ও বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি ভোরের আগে নাবাতিয়া ও আশপাশের এলাকায় কামানের গোলাও ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। ভয়ংকর এই হামলায় এখনও পর্যন্ত ১২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। এই ধরনের হামলায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যুদ্ধবিরতি ভবিষ্যৎ নিয়ে। দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাতের মাঝেই আমেরিকার তরফে দাবি করা হয়েছিল শুক্রবার বিকেল চারটে নাগাদ ইজরায়েল ও হেজবোল্লার মধ্যে যুদ্ধবিরতি সম্পন্ন হয়েছিল। উভয়পক্ষই চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে। তার ঠিক পরি চলল এই হামলা।
দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাতের মাঝেই আমেরিকার তরফে দাবি করা হয়েছিল শুক্রবার বিকেল চারটে নাগাদ ইজরায়েল ও হেজবোল্লার মধ্যে যুদ্ধবিরতি সম্পন্ন হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ইরান-আমেরিকার শান্তির লক্ষ্যে ১৪টি শর্তের উপর মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, ইরান, লেবানন-সহ মধ্যপ্রাচ্যের বাকি অংশে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। নতুন করে কোনও যুদ্ধ হবে না সেই গ্যারান্টি দেবে ইজরায়েল ও আমেরিকা। ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন, যেন লেবানন ইস্যুতে আরও বেশি দায়িত্ব নেন তিনি। কিন্তু দক্ষিণ লেবানন ও বেইরুটে ইজরায়েলের বোমা বর্ষণ চলছেই। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এহেন পরিস্থিতিতে শেষপর্যন্ত কি চুক্তি টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে? ইরান যে এটা ভালোভাবে নিচ্ছে না তা ইতিমধ্যেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। ইরান জানিয়ে দিয়েছে, ইজরায়েলকে থামানোর দায়িত্ব আমেরিকাকেই নিতে হবে।
