অবশেষে মধ্যপ্রাচ্যে থামছে যুদ্ধ! ২ সপ্তাহের সংঘর্ষবিরতিতে রাজি ইরান এবং আমেরিকা। ভারতীয় সময় বুধবার ভোরে এমনটাই ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জানা গিয়েছে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দু'পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে।
এদিন সমাজমাধ্যম ট্রুথ সোশালে ট্রাম্প লেখেন, 'পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং পাক সেনা সর্বাধিনায়ক আসিম মুনিরের দেওয়া একটি প্রস্তাব আমি গ্রহণ করেছি। এই প্রস্তাব অনুযায়ী, দু'সপ্তাহের জন্য ইরানের সঙ্গে আমরা যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছি। পরিবর্তে হরমুজ প্রণালী খুলে দেবে তেহরান।' ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছনোর জন্য আগামী দু'সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের কথায়, "ইরানের জারি করা ১০ দফা শর্ত আমাদের কাছে আসে। আমরা বিশ্বাস করি, আলোচনার জন্য এই প্রস্তাব একটা ভিত্তি হতে পারে।"
যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী দু'সপ্তাহ আমেরিকা ইরানে কোনও রকম সামরিক অভিযান চালাবে না। অন্যদিকে, শর্তসাপেক্ষে হরমুজ মুক্ত করবে ইরান। সূত্রের খবর, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে আগামী ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে বৈঠকে বসবে দুই দেশ। এই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে ইজরায়েলও সম্মতি জানিয়েছে বলে খবর। উল্লেখ্য, ইরান আগেই জানিয়ে দিয়েছিল, সম্পূর্ণ যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত হলে তবেই তারা হরমুজ পুরোপুরি মুক্ত করা হবে। সাময়িক যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে নয়।
ইরানের তিন কর্তাকে উদ্ধৃত করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস' জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতায় ছিল পাকিস্তান। কিন্তু তা সত্ত্বেও কিছু জটিলতা। এদিকে ট্রাম্পের সময়সীমাও ছিল শেষের পথে। অন্তিমলগ্নে চিনের হস্তক্ষেপে পাক প্রস্তাবে রাজি হয় ইরান এবং আমেরিকা। ইরানের নয়া সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেই যুদ্ধবিরতিতে অনুমোদন দেন।
যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়ে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি তাঁর এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ' পাক প্রধানমন্ত্রীর ভ্রাতৃত্বপূর্ণ অনুরোধ রক্ষা করতে আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে আমরা রাজি হয়েছি। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ থেকে আমি ঘোষণা করছি, যদি ইরানের ওপর হামলা বন্ধ হয়, তাহলে আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীও প্রত্যাঘাত বন্ধ করবে।' পাশাপাশি, হরমুজ নিয়েও মুখ খুলেছেন তিনি। বলেন, "দুই সপ্তাহের জন্য আমরা হরমুজ খুলে দিচ্ছি। তবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে জাহাজগুলিকে সমন্বয় সাধন করতে হবে। সবদিক বিবেচনার পরই হরমুজ দিয়ে নিরাপদে জাহাজগুলি যাতায়াত করতে পারবে।"
