হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে আবারও ইরানে বোমাবর্ষণ শুরু আমেরিকার। এই নিয়ে টানা দশদিন। মার্কিন সেনার তরফ থেকে জানানো হয়েছে, আরেক মার্কিন সেনার মৃত্যু এবং মার্কিন মিত্র দেশ কুয়েত, জর্ডন, বাহরিনের উপরে তেহরানের হামলার জবাব দিতেই এই বোমাবর্ষণ। সেই সঙ্গেই জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর ইরানি আক্রমণ রোখাও এই হামলাগুলির লক্ষ্য।
গতকালই নিজস্ব সমাজমাধ্যম ট্রুথ সোশালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট লেখেন, ‘যতবার ইরান একজন মার্কিন সেনাকে হত্যা করবে, ততবারই তাদের সেই হত্যার জন্য বহুগুণ মূল্য চোকাতে হবে। আমেরিকার সেনাবাহিনীর শীর্ষ আধিকারিকদের এই নির্দেশ ইতিমধ্যেই পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।’ সেই সময় থেকেই বোঝা গিয়েছিল এবার ফের ভয়াবহ হামলার পথে হাঁটবে আমেরিকা। দ্রুতই সেই আশঙ্কা সত্যি হল।
প্রসঙ্গত, শান্তিচুক্তি ভঙ্গ করে ফের রক্তাক্ষয়ী সংঘাতে জড়িয়েছে আমেরিকা ও ইরান। সেই সংঘাত ক্রমশ ভয়াবহ আকার নিতে শুরু করেছে। ইরানের সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি সেখানকার সেতু, জল শোধনাগার এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্র-সহ বেসামরিক কাঠামোগুলিতে হামলা করেছে। এর জবাবে তেহরানও মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার বন্ধু দেশগুলির ওপর হামলা চালিয়েছে। ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আটকাতে কুয়েত, জর্ডান, বাহরিন এবং কাতার তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে।
এদিকে বিশ্বের জ্বালানি বাজারের জন্য সোমবার নতুন বিপদের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।ইয়েমেনে ইরানের মদতপুষ্ট বিদ্রোহীরা ঘোষণা করেছে, তারা লোহিত সাগরে সৌদি আরবের জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত করার পরিকল্পনা করছে। এই পথটি যুদ্ধের সময় তেল রপ্তানির একটি বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যদি সেখানেও সমস্যা তৈরি হয়, তাহলে অচিরেই জ্বালানি সংকট নতুন মাত্রা পেতে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।
