ফের শুল্কের খাঁড়া হাতে ময়দানে নেমে পড়লেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার তাঁর কোপের মুখে প্রতিবেশী দেশ কানাডা। এই দেশ থেকে আসা বেশিরভাগ পণ্যের ৫০ শতাংশ শুল্ক (US Tariff on Canada) চাপানোর ঘোষণা করা হয়েছে। আমেরিকার অভিযোগ, মার্কিন পণ্যের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে কানাডার প্রশাসন। যার জেরেই এই পদক্ষেপ। এই ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সংঘাত বাড়তে চলেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জানা যাচ্ছে, ১৯৩০ সালের মার্কিন বাণিজ্য আইনের ৩৩৮ ধারাকে হাতিয়ার করে কানাডার বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। মোট তিনটি খাতে এই শুল্ক বৃদ্ধির নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। যদিও এই পদক্ষেপের নেপথ্যে আরও একটি কারণ সামনে আসছে। মার্কিন প্রশাসনের এক শীর্ষ আধিকারিক এর কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, আসলে চিনের পর কানাডা একমাত্র দেশ যে ট্রাম্পের শুল্কের পালটা শুল্ক আরোপের সাহস দেখিয়েছিল। যা মোটেই ভালোভাবে নেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কানাডার উচিত ছিল আমেরিকাকে জবাবদিহি করা। তা না করার ফলই এবার পাচ্ছে কানাডা।
চিনের পর কানাডা একমাত্র দেশ যে ট্রাম্পের শুল্কের পালটা শুল্ক আরোপের সাহস দেখিয়েছিল। যা মোটেই ভালোভাবে নেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
তবে কানাডার বেশিরভাগ আমদানিকৃত পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপালেও প্রয়জনমতো কিছু পণ্যে রেহাই দেওয়া হয়েছে। যেমন জ্বালানি পণ্য, পটাশ, মাছ ও দুর্লভ খনিজ। এছাড়া বেশিরভাগই পণ্যের ঘাড়েই পড়েছে শুল্কের কোপ। এর আগে ২০২০ সালে কার্যকর হয়েছিল আমেরিকা-কানাডা-মেক্সিকো শুল্কমুক্ত বাণিজ্য চুক্তি। তবে সম্প্রতি সেই চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে। এরপরই তৎপর হয়ে উঠলেন ট্রাম্প। এই পদক্ষেপ কানাডার অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এর আগে বাণিজ্য আইনের ৩৩৮ ধারা প্রয়োগ করে বেশ কয়েকটি দেশের ওপর একইভাবে শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের আগ্রাসী নীতির জেরে গতবছর এই আইন বাতিলের প্রস্তাব দিয়েছিল ডেমোক্র্যাটরা। সেনেটররা সতর্ক করেছিলেন, ট্রাম্প এই আইন ব্যবহার করে প্রতিশোধমূলক শুল্ক আরোপ করতে পারে বহু দেশের উপর। যা আমেরিকার অর্থনীতিকে অস্থির করে তুলবে।
