ফের একবার হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা করেছে ইরান। সেই দাবি হেলায় উড়িয়ে দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করলেন, বিশ্বের অন্যতম নৌপথের নিয়ন্ত্রণ এবার আমেরিকার হাতে। কেবল তাই-ই নয়। সেজন্য অর্থও দাবি করে বসলেন তিনি। অথচ মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে লাগাতার হামলা চালাচ্ছে ইরান। তেহরানের সেনা দাবি করেছে, তারা তিন দফা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় জর্ডন, বাহরিন, কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে। ধ্বংস করেছে জ্বালানি ট্যাঙ্ক, প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার- সব। এহেন পরিস্থিতিতেও ট্রাম্প এমন দাবি করলেন।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে, ''আমরা প্রণালীটা নিজেদের কাছেই রাখব। এবং সম্ভবত আমরাই এটা চালাব। আমরা প্রণালীটার অভিভাবক হয়ে উঠব। আর এর জন্য আমাদের ক্ষতিপূরণ পাওয়া উচিত।'' এর আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তরফেও একই দাবি করা হয়েছিল। জানানো হয়েছিল, হরমুজ প্রণালী ইরানের নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। এবং গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ নৌচলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত। এবার অবশ্য ট্রাম্প দাবি করছেন, হরমুজ তাঁদের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে।
ইরান ও আমেরিকার মধ্যে যে প্রাথমিক শান্তিচুক্তি সই হয়েছিল তা আপাতত বিশ বাঁও জলে। হরমুজে জাহাজে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে অশান্তি শুরু হয়েছে। এই অবস্থায় শনিবার এই প্রণালী বন্ধের ঘোষণা করে তেহরান। আর তারপর থেকেই বিতর্ক ঘনিয়েছে আরও বেশি করে। ইরান হরমুজ ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট আগেই জানিয়েছে, “এটি আমাদের আঞ্চলিক জলসীমা। কোনও অবস্থাতেই আমরা আমাদের অবস্থান থেকে সরে আসব না।” হরমুজকে আল্লার উপহার বলে দাবি করে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ঘালিবাফ বলেন, “এই যুদ্ধের সময় আল্লা আমাদের যে উপহার দিয়েছেন, সেটিই হরমুজ প্রণালী। এটি আমাদের শক্তির সবচেয়ে বড় উৎস।” ট্রাম্প সেই প্রণালীকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনার কথা বলার পর তেহরান জবাবে কিছু বলে কিনা সেটাই দেখার।
