আমেরিকা যদি ইরানের মাটিতে পা রাখে, কিংবা খার্গ দ্বীপ দখল করতে আসে, তবে ওরা বেঁচে ফিরবে না। যুদ্ধের দামামার মাঝেই কড়া সুরে হুঁশিয়ারি দিলেন ইরানের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। সম্প্রতি ইরানের খার্গ দ্বীপে সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এর পালটা ইরানের তরফ থেকে হুঁশিয়ারি।
যুদ্ধের মাঝেই মার্কিন হুঁশিয়ারির পালটা দিয়ে ইরানের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র বাঘাই বলেন, "ইরানে এমন অনেকে আছে যারা মার্কিন সেনার আগমনের অপেক্ষা করছে। যদি খার্গ ও তার আশপাশের এলাকায় অনুপ্রবেশ ঘটে তবে লড়াইয়ের জন্য তারা পুরোদমে প্রস্তুত। আমেরিকা খার্গ দ্বীপ দখলের চেষ্টা করলে ওদের একজন সেনাও এখান থেকে বেঁচে ফিরতে পারবে না।'' প্রসঙ্গত, বুশেহর প্রদেশের উপকূল থেকে প্রায় ৫৫ কিলোমিটার দূরে পারস্য উপসাগরে অবস্থিত খার্গ দ্বীপ। এটি ইরানের বৃহত্তম তেল রপ্তানি কেন্দ্র এবং দেশটির কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল।
ইরানের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র বাঘাই বলেন, "ইরানে এমন অনেকে আছে যারা মার্কিন সেনার আগমনের অপেক্ষা করছে।"
এক মার্কিন সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ইরানের খার্গ দ্বীপে সেনা নামাতে পুরোদমে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে আমেরিকা। খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট সেনাবাহিনীকে এই সংক্রান্ত ব্লুপ্রিন্ট সাজানোর নির্দেশ দিয়েছেন। ইতিমধ্যেই ইরানের জল শোধনাগার, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলা শুরু করেছে আমেরিকা। এবার তাদের লক্ষ্য ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র তথা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপ। এই দ্বীপে নিয়ন্ত্রণের অর্থ তেহরানের অর্থনীতিকে পুরোপুরি পঙ্গু করে দেওয়া। এই পদক্ষেপ সফল হলে ইরানকে বাগে আনা আরও সহজ হবে আমেরিকার পক্ষে। এই পরিস্থিতির মাঝেই এবার আমেরিকাকে হুঁশিয়ারি দিল ইরান।
এদিকে সোমবার ওমানের উপকূলে ফের একটি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। সূত্রের খবর, ইরানের তরফেই এই হামলা চালানো হয়েছে। এই ঘটনায় আগুন ধরে যায় জাহাজে, আশপাশে থাকা অন্যান্য নৌকা আক্রান্ত জাহাজের নাবিকদের উদ্ধার করেছে। ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, নাবিকদের উদ্ধার করা গেলেও জাহাজের আগুন নেভানো যায়নি এখনও। অনিয়ন্ত্রিতভাবে সমুদ্রে ভাসছে সেটি। ওই এলাকা দিয়ে যাতায়াতকরা অন্যান্য জাহাজগুলোকে সতর্ক থাকতে এবং কোনও সন্দেহজনক কার্যকলাপ দেখলে দ্রুত জানানোর পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।
