মাইলের পর মাইল, যেদিকে চোখ যায় শুধু আগুন আর ধোঁয়া। আকাশের রং বদলে লালচে হয়ে গিয়েছে। বাড়ির ভিতর থেকেও যেন টের পাওয়া যাচ্ছে সর্বগ্রাসী আগুনের উত্তাপ। এমনই পরিস্থিতি কানাডার (Canada Wildfire)। দাউদাউ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে মাত্র দু'দিনের মধ্যে। শুক্রবারের পর সোমবারের মধ্যেই নাকি দ্বিগুণ এলাকা জ্বলেপুড়ে খাক হয়ে গিয়েছে। হাজার হাজার মানুষকে বিপদের মুখ থেকে ইতিমধ্যে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। এই অবস্থায় দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেছে কানাডা প্রশাসন।
সামারল্যান্ড ও ব্রিটিশ কলম্বিয়ার একটা বড় অংশে দাবানলের কবলে পড়েছে। শুক্রবার থেকে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে হতে রবিবার তা ভয়ংকরতম আকার ধারণ করেছে বলে জানাচ্ছে প্রশাসন। সামারল্যান্ডের মেয়র ডগ হোমস বাসিন্দাদের উদ্দেশে জানান, আমাদের সবচেয়ে ভয়ংকর পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। এটাই সবচেয়ে খারাপ অবস্থা। কানাডা পুলিশ সূত্রে খবর, মিডো ভ্যালিতে বছর আশির মহিলা আগুনের লেলিহান শিখা দেখে নিজের বাড়ি থেকে পালাতে চাইছিলেন। সেসময়ই অগ্নিশিখা তাঁকে গ্রাস করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, দাবানলের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। কিগান রোডমস্কি নামে এক বাসিন্দা জানাচ্ছেন, আগুন তাঁর বাড়ি গিলে ফেলার ঠিক আগের মুহূর্তে তিনি পরিবার নিয়ে বাড়ি ছেড়েছিলেন, তাই প্রাণ বেঁচেছে। আর্ল কার্জ নামে সামারল্যান্ডের বাসিন্দার কথায়, ‘‘৩০ বছর ধরে এখানে আছি, কোনওদিন ছেড়ে যাওয়ার কথা ভাবতেই পারিনি। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি আমাকে ঘরছাড়া হতে বাধ্য করল।'' প্রশাসন সূত্রে খবর, মোট ১৩৬ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় পুড়ে খাক হয়ে গিয়েছে।
এদিকে, ব্রিটিশ কলম্বিয়ার প্রিমিয়ার ডেভিড এবাই সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, ‘‘এত আগুন মনে হচ্ছে যেন মুহুর্মুহু বোমা পড়ছে। প্রচুর বাড়ি, সম্পত্তি নষ্ট হয়েছে। মানুষ আটকে পড়েছে। বেরতেও পারছে না, ঘরেও তাঁরা নিরাপদ নন। তাঁদের উদ্ধার করা জরুরি। খুব দ্রুত পরিস্থিতি বদলে যাচ্ছে।" এমন বিপর্যয়ের সময়ে প্রাদেশিক প্রশাসনকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়াই থাকে। সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করে আপাতত এসব জায়গায় পর্যটনে সম্পূর্ণ জারি করা হয়েছে। বারবার বাসিন্দাদের বাড়ি খালি করে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে। সবমিলিয়ে এক দাবানল সামলাতে জীবন বাজি রাখতে হচ্ছে নাগরিক থেকে উদ্ধারকর্মী, সকলকে।
