পঞ্জিকা মতে আসন্ন ১ মে এক বিরল যোগের সাক্ষী হতে চলেছে মহাকাশ। একদিকে পবিত্র বুদ্ধ পূর্ণিমা, অন্যদিকে ওই দিনেই অস্তাচলে যাচ্ছে গ্রহরাজ বুধ। জ্যোতিষশাস্ত্রে বুধকে বুদ্ধি, বাণিজ্য এবং বাকচাতুর্যের কারক গ্রহ হিসেবে গণ্য করা হয়। সৌরজগতে এই গ্রহের অবস্থান পরিবর্তন জনমানসে গভীর প্রভাব ফেলে। তবে আসন্ন পূর্ণিমা তিথিতে বুধের এই তেজহীন দশা সব রাশির জন্য সুখকর নাও হতে পারে। গ্রহের ফেরে বিশেষ করে চার রাশির জাতক-জাতিকাদের জীবনে আসতে চলেছে দুর্যোগের মেঘ। কোন কোন রাশি? জেনে নিন।
ছবি: সংগৃহীত
কন্যা রাশি
বুধের এই চলনে কন্যা রাশির জাতকদের কর্মক্ষেত্রে বিশেষ সাবধানতা প্রয়োজন। কাজের গতি শ্লথ হতে পারে। পেশাগত সিদ্ধান্তে বিভ্রান্তি দেখা দেওয়ার প্রবল যোগ রয়েছে। লেনদেনের ক্ষেত্রে চরম সতর্কতা অবলম্বন করুন। না পড়ে কোনও নথিতে স্বাক্ষর করবেন না। এই সময়ে চেনা মানুষের থেকেই প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা থাকছে। অপরিচিত কাউকে অন্ধবিশ্বাস করলে বিপদ বাড়তে পারে। রাশ টানুন অহেতুক ব্যয়ে।
বৃশ্চিক রাশি
বৃশ্চিক রাশির ক্ষেত্রে সংকটের জায়গাটি মূলত যোগাযোগ ও সম্পর্ক। কথাবার্তায় তিক্ততা আসতে পারে যা অন্যদের মনে আঘাত হানবে। তুচ্ছ বিষয়ে প্রিয়জনের সঙ্গে বিবাদের সম্ভাবনা রয়েছে। কর্মস্থলে সহকর্মীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এই সময়টি একেবারেই অনুকূল নয়। হঠকারী কোনও সিদ্ধান্ত নিলে বড়সড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। ধৈর্যই হোক আপনার মূল মন্ত্র।
ফাইল ছবি
ধনু রাশি
ধনু রাশির জাতকদের উপর মানসিক চাপের পাহাড় জমবে। কর্মক্ষেত্রে কাজের বাড়তি বোঝা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। কোনও গোপন তথ্য ফাঁস হওয়ার আশঙ্কায় মন অস্থির থাকতে পারে। এই সময়ে পরিবার ও কর্মজীবনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। ভ্রমণের সময় ব্যক্তিগত নথিপত্র ও স্বাস্থ্যের দিকে কড়া নজর রাখুন। অসুস্থতা যেন দৈনন্দিন রুটিনে বাধা না হয়ে দাঁড়ায়, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি।
কুম্ভ রাশি
আর্থিক টানাপোড়েন নাজেহাল করতে পারে কুম্ভ রাশির জাতকদের। বুধের দহন যোগে আপনার সঞ্চয়ে টান পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অপ্রয়োজনীয় খরচ বা ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বে এখন পা না বাড়ানোই বুদ্ধিমানের কাজ। পারিবারিক ক্ষেত্রে ছোটখাটো মন্তব্য থেকে বড় বিবাদ দানা বাঁধতে পারে। তাই সংযত বাক্যালাপ একান্ত কাম্য। ভাগ্যের বিরূপ প্রভাব কাটাতে এই সময়ে দৈনন্দিন রুটিনে শৃঙ্খলা বজায় রাখা বাঞ্ছনীয়।
জ্যোতিষীদের মতে, এই অশুভ দশা সাময়িক। সচেতনতা এবং সংযম বজায় রাখলেই কাটানো যেতে পারে আসন্ন এই গ্রহ-বিপত্তি।
