এসআইআরে নাম বাদ পড়ার টেনশনে মৃত্যু হয়েছিল বাড়ির কর্তার। প্রথম দফা ভোটে নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করে তাঁর স্ত্রী বলেছিলেন, ''ইভিএমের বোতামে জবাব দিয়েছি।'' সে ছিল পুরুলিয়ার ঘটনা। এবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের এক মহিলাও এসআইআরের বিরুদ্ধে ব্যালটে জবাব দিতে উড়ে এলেন সুদূর ফিনল্যান্ড থেকে। বুধবার দ্বিতীয় দফার ভোটে (WB Phase 2 Election 2026) তিনি লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিলেন হাসিমুখে। বেরিয়ে জানালেন, যুদ্ধের জন্য বিমানভাড়া অনেক বেশি ছিল। তবু কষ্ট করে টিকিট কেটে ফিরেছেন নিজের ভিটেতে, শুধুমাত্র ভোট দেওয়ার জন্য। এবারের ভোট তো অন্যান্যবারের চেয়ে আলাদা, এসআইআরের জবাব এবার দিতেই হতো ভোটে। সেই লক্ষ্য নিয়েই এসেছেন।
বছর চল্লিশের পাকিজা মণ্ডল। বারুইপুরের বাসিন্দা। পেশা সূত্রে তিনি ফিনল্যান্ডে থাকেন বহুদিন ধরে। রাজ্যে যখন এসআইআরে বহু লোকের নাম বাদ পড়ে, সেসময় সহনাগরিকদের জন্য বড় মনখারাপ হয়েছিল তাঁর। ঠিক করেছিলেন, এসআইআরের এভাবে নাম বাদের জবাব তিনি দেবেন নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করে।
বছর চল্লিশের পাকিজা মণ্ডল। বারুইপুরের বাসিন্দা। পেশা সূত্রে তিনি ফিনল্যান্ডে থাকেন বহুদিন ধরে। রাজ্যে যখন এসআইআরে বহু লোকের নাম বাদ পড়ে, সেসময় সহনাগরিকদের জন্য বড় মনখারাপ হয়েছিল তাঁর। ঠিক করেছিলেন, এসআইআরের এভাবে নাম বাদের জবাব তিনি দেবেন নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করে। ২৯ এপ্রিল দিনটিকে টার্গেট করে পাকিজা ভারতে আসার পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন। কিন্তু মাঝে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ সেই পরিকল্পনা বেশ খানিকটা ঘেঁটে দেয়। বিমানের ভাড়া বেড়ে যায় কয়েকগুণ। পাকিজা চেয়েছিলেন, স্বামী-সন্তান সবাইকে নিয়েই দেশে ফিরে নির্বাচনে অংশ নিতে। কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। কোনওক্রমে নিজের আর সন্তানের টিকিট পান। স্বামী মোস্তাক আলি মণ্ডলকে রেখেই চলে আসেন স্বদেশে।
বারুইপুরের মদারহাট পপুলার অ্যাকাডেমিতে ভোট পাকিজা মণ্ডলের। নিজস্ব ছবি
দিন ১৫ হল বারুইপুরের বাড়িতে ফিরেছেন পাকিজা, সঙ্গে সাড়ে তিন বছরের ছেলে। তিনি বারুইপুর পশ্চিম কেন্দ্রের ভোটার। বুধবার মদারহাট পপুলার অ্যাকাডেমিতে ভোট দিতে যান। লাইনে দাঁড়িয়ে নিজের ভোটটি দিয়ে বেরিয়ে পাকিজা বলেন, ‘‘আমার অনেক আত্মীয়স্বজনের নাম ভোটার তালিকা থেকে সংশোধনের পরে ডিলিট হয়ে গেছে। এসআইআর প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়েছে। তার ফলে যেভাবে সাধারণ ভোটারদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হল না তারই প্রতিবাদ আমার। যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে ফিনল্যান্ড থেকে আসতে অনেক সমস্যা হয়েছে। কিন্তু শুধুমাত্র ভোট দেওয়ার জন্যই আমি এসেছি। তারপর এখান থেকে আত্মীয়-স্বজনরা ফোন করে আমাকে জানিয়েছেন, যদি ভোট না দিই তাহলে হয়তো ভোটার লিস্ট থেকে নাম বাদ চলে যাবে।সেটাও আশঙ্কা ছিল।'' এমন সচেতন, দায়িত্ববান ভোটারই তো পৃথিবীর বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশে কাম্য।
