shono
Advertisement

Breaking News

Bangladesh

ইউনুস বিদায় নিতেই বাংলাদেশের পাশে আদানি, শুরু ৯২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ

এদিকে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ চূড়ান্ত ধাপে। পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশের তালিকায় বিশ্বের ৩৩তম দেশ হচ্ছে বাংলাদেশ। ভবিষ্য়তে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের দু'টি ইউনিট কাজ করবে এখানে। বিস্তারিত প্রথম কমেন্টে।
Published By: Kishore GhoshPosted: 03:51 PM Apr 28, 2026Updated: 05:03 PM Apr 28, 2026

বিদ্যুৎ সরবরাহের বকেয়া মেটানো নিয়ে আদানি গ্রুপের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের বিস্তর চিঠি চালাচালির পরেও মীমাংসা হয়নি। উলটে ইউনুস আমলে বিদ্যুতের দাম নিয়ে ভারতীয় সংস্থার দিকে আঙুল তোলা হয়। এরপর পদ্মায় অনেক জল গড়িয়েছে। সে দেশে ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জমানায় ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। বন্ধুত্বের এই বাতাবরণে আদানি তাদের পাওয়ার প্ল্যান্টের দ্বিতীয় ইউনিট থেকে ৯২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ শুরু করেছে বলেই খবর। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, সোমবার (২৭ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টা ৪৭ মিনিটে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সিঙ্ক্রোনাইজ হয়। এর পরেই শুরু হয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ।

Advertisement

২০১৭ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি হয় ভারতের আদানি পাওয়ারের। চুক্তি অনুযায়ী, ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় অবস্থিত বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে পরবর্তী ২৫ বছর ১০০ শতাংশ বিদ্যুৎ ঢাকাকে সরবরাহ করার কথা আদানির সংস্থার। কিন্তু হাসিনা সরকারের পতনের পরে পরিস্থিতি বদলায়। আদানি গোষ্ঠীর দাবি, চুক্তি মেনে এ পর্যন্ত বকেয়া টাকাও মেটায়নি বাংলাদেশ। ২০১৭ সালের চুক্তি অনুসারে ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আদানি পাওয়ার। কিন্তু ২০২৪ সালের অক্টোবরে সেই সরবরাহের পরিমাণ অর্ধেকে নামিয়ে আনে ইউনূস সরকার। আদানি পাওয়ারের কাছে বাংলাদেশের বকেয়াও বাড়তে থাকে।

ওছাড়াও হাসিনার আমলে যে সমস্ত বিদ্যুৎ চুক্তি হয়েছিল, সেগুলিকে ঘিরে প্রশাসনিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে হাই কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করে বাংলাদেশ। আদানি-চুক্তি নিয়েও পৃথক রিপোর্ট তৈরি করে সেই কমিটি। সেই কমিটি রিপোর্ট দেয়, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে করা চুক্তিগুলির মধ্যে আদানি-চুক্তিই ‘নিকৃষ্টতম’! শুধু তা-ই নয়, এ জন্য নাকি প্রতি বছরই পাঁচ থেকে ছ’হাজার টাকা অতিরিক্ত গুনতে হচ্ছে ভারতের প্রতিবেশী দেশকে। যদিও ইউনুস ক্ষমতায় সরতেই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। তার পরিণতি নতুন করে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করল আদানি গোষ্ঠী।

এদিকে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছাল বাংলাদেশ। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুল্লিতে পারমাণবিক জ্বালানি বা ইউরেনিয়ামের ব্যবহার শুরু হচ্ছে আজ মঙ্গলবার থেকে। এর মধ্য দিয়ে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশের তালিকায় বিশ্বের ৩৩তম দেশ হচ্ছে বাংলাদেশ। চুল্লিপাত্রে ইউরেনিয়াম জ্বালানি বসানো হলে তা থেকে তাপ তৈরি হবে। সেই তাপে জল থেকে বাষ্প তৈরি হয়ে টারবাইন ঘুরবে আর সেখান থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে।

পাবনার রূপপুরে নির্মিত এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের চুল্লিপাত্রে জ্বালানি প্রবেশ করানো শুরু হচ্ছে আজ। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রক বলছে, বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আগে এটি চূড়ান্ত ধাপ। ধাপে ধাপে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। আগামী আগস্টে জাতীয় গ্রিডে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে। জ্বালানি প্রবেশ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, রুশ পরমাণু শক্তি কর্পোরেশনের (রোসাটম) মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ।

অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হবেন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রসি। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় একক প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পরমাণু শক্তি কমিশন। এ প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের দু'টি ইউনিট নির্মাণ করছে রাশিয়ার সংস্থা অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট। উল্লেখ্য, জীবাশ্ম জ্বালানির চেয়ে কম খরচে দীর্ঘ মেয়াদে বিদ্যুৎ দেবে রূপপুর। দেশের বিদ্যুৎ চাহিদার ১০ থেকে ১২ শতাংশ পূরণ করবে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement